ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাঁটার সময় বেখেয়াল হয়ে পড়ছেন না তো?

রাস্তায় হেঁটে পথ চলার সময় সতর্ক থাকুন। ছবি: সংগৃহীত

খোলা ম্যানহোল এবং রাস্তার অরক্ষিত বিপজ্জনক গর্তগুলো আমাদের নাগরিক জীবনের জন্য এক একটি জীবন্ত ডেথ ট্র্যাপ বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেই নিষ্পাপ শিশুটির কথা কি আজ আমাদের মনে আছে, যে মায়ের চোখের সামনেই হঠাৎ এক গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছিল? মুহূর্তের মধ্যেই তার জীবনের সব আলো চিরতরে নিভে গিয়েছিল সেই অন্ধকার গর্তে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

কিংবা আমাদের কি মনে পড়ে সেই হতভাগা মায়ের কথা, যিনি জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই একটি খোলা ম্যানহোল এ পড়ে তলিয়ে গিয়েছিলেন? ফুটফুটে সন্তানদের কাছে আর কোনোদিন ফেরা হয়নি তাঁর। এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর প্রায়শই খবরের কাগজে পড়ে আমরা সাময়িকভাবে ভীষণ কষ্ট পাই এবং আমাদের মন এক অজানা বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে।

এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো দেখে কারও কারও চোখে হয়তো দু-ফোঁটা জলও আসে, তবে সময়ের নিয়মে আমরা সবকিছু খুব দ্রুত ভুলেও যাই। আমরা প্রতিদিন সেই খোলা ম্যানহোল কিংবা রাস্তার পাশে থাকা বিপজ্জনক গর্তের পাশ দিয়েই সম্পূর্ণ নির্বিকার ভঙ্গিতে হেঁটে চলে যাই। কিন্তু যিনি তাঁর অতি আপনজনকে হারান, তিনিই কেবল সারা জীবন বয়ে বেড়ান কষ্টের প্রচণ্ড ভারী এক বোঝা।

নাগরিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম উদাসীনতা এবং খামখেয়ালিপনার কারণে বছরের পর বছর ধরে রাস্তাঘাটের এই জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থা বজায় থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই যখন পথঘাট পানিতে ডুবে যায়, তখন এই মরণফাঁদগুলো আর সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। ফলে অসাবধানতাবশত পা বাড়ালেই ঘটে যায় চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় কোনো অঘটন।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে প্রতিটি রাস্তার মোড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা এবং ঢাকনাবিহীন নালাগুলোতে দ্রুত টেকসই ঢাকনার ব্যবস্থা করা। শুধু দুর্ঘটনা ঘটার পর সাময়িক তদন্ত কমিটি গঠন করলেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি জোরদার করা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাঁটার সময় বেখেয়াল হয়ে পড়ছেন না তো?

Update Time : ১১:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

খোলা ম্যানহোল এবং রাস্তার অরক্ষিত বিপজ্জনক গর্তগুলো আমাদের নাগরিক জীবনের জন্য এক একটি জীবন্ত ডেথ ট্র্যাপ বা মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। সেই নিষ্পাপ শিশুটির কথা কি আজ আমাদের মনে আছে, যে মায়ের চোখের সামনেই হঠাৎ এক গভীর গর্তে পড়ে গিয়েছিল? মুহূর্তের মধ্যেই তার জীবনের সব আলো চিরতরে নিভে গিয়েছিল সেই অন্ধকার গর্তে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

কিংবা আমাদের কি মনে পড়ে সেই হতভাগা মায়ের কথা, যিনি জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই একটি খোলা ম্যানহোল এ পড়ে তলিয়ে গিয়েছিলেন? ফুটফুটে সন্তানদের কাছে আর কোনোদিন ফেরা হয়নি তাঁর। এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর প্রায়শই খবরের কাগজে পড়ে আমরা সাময়িকভাবে ভীষণ কষ্ট পাই এবং আমাদের মন এক অজানা বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুন  প্রিয় দল হারলে মন খারাপ? জেনে নিন করণীয়

এই ধরনের হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো দেখে কারও কারও চোখে হয়তো দু-ফোঁটা জলও আসে, তবে সময়ের নিয়মে আমরা সবকিছু খুব দ্রুত ভুলেও যাই। আমরা প্রতিদিন সেই খোলা ম্যানহোল কিংবা রাস্তার পাশে থাকা বিপজ্জনক গর্তের পাশ দিয়েই সম্পূর্ণ নির্বিকার ভঙ্গিতে হেঁটে চলে যাই। কিন্তু যিনি তাঁর অতি আপনজনকে হারান, তিনিই কেবল সারা জীবন বয়ে বেড়ান কষ্টের প্রচণ্ড ভারী এক বোঝা।

আরও পড়ুন  শিশুদের বার্নআউট কী কীভাবে চিনবেন

নাগরিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম উদাসীনতা এবং খামখেয়ালিপনার কারণে বছরের পর বছর ধরে রাস্তাঘাটের এই জরাজীর্ণ ও বিপজ্জনক অবস্থা বজায় থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলেই যখন পথঘাট পানিতে ডুবে যায়, তখন এই মরণফাঁদগুলো আর সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না। ফলে অসাবধানতাবশত পা বাড়ালেই ঘটে যায় চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার মতো বড় কোনো অঘটন।

আরও পড়ুন  গরমেও কেন ঠান্ডা লেগে যায় ; কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে প্রতিটি রাস্তার মোড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা এবং ঢাকনাবিহীন নালাগুলোতে দ্রুত টেকসই ঢাকনার ব্যবস্থা করা। শুধু দুর্ঘটনা ঘটার পর সাময়িক তদন্ত কমিটি গঠন করলেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, বরং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকি জোরদার করা জরুরি।