ঢাকা ১১:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রশ্ন কমন না পড়ায় ভাঙচুর, এইচএসসি কেন্দ্রে উত্তেজনা

চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে উত্তেজনা, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের হস্তক্ষেপ। ছবি: সংগৃহীত।

ভোলার চরফ্যাশনে একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

কেন্দ্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, পরীক্ষা চলাকালে কিছু পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে নকল করার সুযোগ দাবি করেন। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের দাবিতে সাড়া দেননি। এতে একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে কঠোরভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে নকলের দাবি জানায়। বাধা দেওয়া হলে তারা অসদাচরণ শুরু করে এবং পরে বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

কেন্দ্রসচিবের তথ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। মোট ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই কিছু শিক্ষার্থী বহুনির্বাচনী ও লিখিত অংশের প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ জানাতে থাকে।

দায়িত্বরত শিক্ষকরা জানান, পরীক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নকলের সুযোগ না দেওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। পরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কলেজের সামনে একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়। তারা আরও কিছু লোককে ডেকে এনে বেলা দেড়টার দিকে কলেজে হামলা চালায়। প্রথমে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা পেছনের ফটক ভেঙে কলেজে ঢুকে পড়ে।

হামলাকারীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এছাড়া অফিস কক্ষের দুটি এসি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র নেওয়ারও চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই হামলায় ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, পথচারী ও অন্যান্য ব্যক্তিরাও আহতদের মধ্যে রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই বাড়ি ফিরে যাওয়ায় সবার পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান জানান, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের বিরোধ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন, যা ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রশ্ন কমন না পড়ায় ভাঙচুর, এইচএসসি কেন্দ্রে উত্তেজনা

Update Time : ০৯:৩২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশনে একটি এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়া এবং নকলের সুযোগ না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। হামলায় কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে।

কেন্দ্র–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, পরীক্ষা চলাকালে কিছু পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্র কঠিন হওয়ার অভিযোগ তুলে নকল করার সুযোগ দাবি করেন। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেওয়ায় দায়িত্বরত শিক্ষকরা তাদের দাবিতে সাড়া দেননি। এতে একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ উত্তেজিত হয়ে পড়ে।

ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে কঠোরভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে নকলের দাবি জানায়। বাধা দেওয়া হলে তারা অসদাচরণ শুরু করে এবং পরে বহিরাগতদের নিয়ে হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আরও পড়ুন  মাল্টিপারপাস এক্সামিনেশন হল পরিকল্পনা জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

কেন্দ্রসচিবের তথ্য অনুযায়ী, ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের আইসিটি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। মোট ৯০০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই কিছু শিক্ষার্থী বহুনির্বাচনী ও লিখিত অংশের প্রশ্ন কঠিন হওয়ার অভিযোগ জানাতে থাকে।

দায়িত্বরত শিক্ষকরা জানান, পরীক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নকলের সুযোগ না দেওয়ায় কয়েকজন শিক্ষার্থী শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। পরে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও ক্ষোভ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কলেজের সামনে একদল শিক্ষার্থী জড়ো হয়। তারা আরও কিছু লোককে ডেকে এনে বেলা দেড়টার দিকে কলেজে হামলা চালায়। প্রথমে প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হলে তারা পেছনের ফটক ভেঙে কলেজে ঢুকে পড়ে।

আরও পড়ুন  প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে ৫ বছরের কারাদণ্ড | নতুন আইন পাস

হামলাকারীরা কলেজের প্রশাসনিক ভবন, অধ্যক্ষের কক্ষ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ এবং বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ ভাঙচুর করে। এছাড়া অফিস কক্ষের দুটি এসি ও বিভিন্ন আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তারা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে উত্তরপত্র নেওয়ারও চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই হামলায় ইটপাটকেলের আঘাতে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিকদার হুমায়ুন কবির, ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী, পথচারী ও অন্যান্য ব্যক্তিরাও আহতদের মধ্যে রয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই বাড়ি ফিরে যাওয়ায় সবার পরিচয় জানা যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। চরফ্যাশন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান জানান, উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাসের দুটি শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। এরপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

আরও পড়ুন  উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণে ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করছে ইউজিসি

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, চরফ্যাশন সরকারি কলেজ ও ফাতেমা-মতিন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এক ধরনের বিরোধ রয়েছে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রের কিছু শিক্ষক পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে অতিরিক্ত কঠোর আচরণ করেছেন, যা ক্ষোভের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, প্রশ্ন কঠিন হওয়াকে কেন্দ্র করে কিছু শিক্ষার্থী এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শিক্ষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলোচনা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।