দেশে হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৯০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে দেশে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬৬ জনে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টার হিসাব পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে একজন হাম আক্রান্ত ছিলেন। বাকি ছয়জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে। মৃতদের মধ্যে ঢাকায় পাঁচজন এবং সিলেটে দুইজন রয়েছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১২২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৭৩৫ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে আরও ৮৬৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ২৪৪ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে ৭৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সাধারণ মানুষকে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে সময়মতো টিকা নেওয়া সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
দেশে হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



























