বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা ও বন্যার কারণে শুধু ডায়রিয়া বা কলেরাই নয়, আরও অনেক ধরনের সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ে। কারণ এ সময় বিশুদ্ধ পানির সংকট, নোংরা পরিবেশ, মশার বংশবিস্তার এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে না পারার কারণে রোগের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে Salmonella Typhi ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টাইফয়েড হয় লক্ষণ-
- দীর্ঘস্থায়ী জ্বর
- মাথাব্যথা
- দুর্বলতা
- পেটে ব্যথা
- ক্ষুধামন্দা
- কখনও ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য
সময়মতো চিকিৎসা না হলে অন্ত্রে ছিদ্র হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বন্যার সময় দূষিত পানি পান করলে হেপাটাইটিস এ ও ই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় লক্ষণ-
- জ্বরবমি বমি ভাব
- ক্ষুধামন্দা
- চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া
- প্রস্রাব গাঢ় রঙের হওয়া
গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে হেপাটাইটিস ই বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
চর্মরোগ দীর্ঘ সময় নোংরা বা জমে থাকা পানিতে থাকলে ত্বকের নানা সমস্যা দেখা দেয় যেমন-
- ফাঙ্গাল ইনফেকশন
- একজিমা
- অ্যালার্জি
- চুলকানি
- পায়ের ঘা
- ব্যাকটেরিয়াজনিত ত্বকের সংক্রমণ
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এসব সংক্রমণ আরও গুরুতর হতে পারে।
স্যাঁতসেঁতে কাপড় পরে থাকা, অপরিষ্কার পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত পানি পান না করার কারণে ইউটিআই হতে পারে লক্ষণ –
- প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া
- ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ
- তলপেটে ব্যথা
- জ্বর
নারীদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার লক্ষণ-
জলাবদ্ধতার ফলে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে।
- উচ্চ জ্বর
- চোখের পেছনে ব্যথা
- শরীরে ব্যথা
- র্যাশ
- প্লাটিলেট কমে যাওয়া
- তীব্র জয়েন্টে ব্যথা
- জ্বর
- শরীরে ব্যথা
- দুর্বলতা
লেপ্টোস্পাইরোসিস এবং ইঁদুরের প্রস্রাবে দূষিত পানির সংস্পর্শে এ ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ হতে পারে।
লক্ষণ-
- জ্বর
- মাথাব্যথা
- পেশিতে ব্যথা
- চোখ লাল হওয়া
- গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি ও লিভারের ক্ষতি
বন্যার পানিতে দীর্ঘ সময় কাজ করা ব্যক্তিদের ঝুঁকি বেশি।
ঘরের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যায়।
ফলে হতে পারে—
- ঠান্ডা-কাশি
- নিউমোনিয়া
- হাঁপানির প্রকোপ বৃদ্ধি
- অ্যালার্জি
বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
নিচের লক্ষণগুলোর যেকোনোটি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—
- বারবার পাতলা পায়খানা
- প্রচণ্ড বমি
- প্রস্রাব কমে যাওয়া
- চোখ বসে যাওয়া
- অতিরিক্ত তৃষ্ণা
- ৩ দিনের বেশি জ্বর
- শ্বাসকষ্ট
- রক্তমিশ্রিত পায়খানা
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
- শরীরে তীব্র পানিশূন্যতা
নিজেকে নিরাপদ রাখবেন-
- শুধুমাত্র ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
- ওআরএস ও নিরাপদ পানি হাতের কাছে রাখুন।
- খাবার ভালোভাবে ঢেকে রাখুন।
- খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পরে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।
- বন্যার পানি স্পর্শ করলে পরিষ্কার পানি ও সাবান দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলুন।
- ভেজা কাপড় দ্রুত বদলে শুকনো কাপড় পরুন।
- জমে থাকা পানি পরিষ্কার করে মশার বংশবিস্তার রোধ করুন।
- শিশু, বয়স্ক ও গর্ভবতীদের বিশেষ যত্ন নিন।
- ডায়রিয়া হলে দ্রুত ওআরএস খাওয়ান এবং পানিশূন্যতা রোধ করুন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার সময় রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সামান্য উপসর্গও অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ দ্রুত চিকিৎসা অনেক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে পারে।





























