দুর্নীতি নিয়ে শফিকুর রহমান: সংসদ থেকেই শুরু হোক জবাবদিহি
বাংলাদেশে দুর্নীতি নিয়ে শফিকুর রহমান সংসদে শক্ত বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে প্রথমে জাতীয় সংসদ থেকেই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, দুর্নীতিকে কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে দায় চাপানোর সুযোগ নেই। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, আমলা—সবার সম্মিলিত দায়িত্বেই একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব।
সংসদ থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
সংসদের সমাপনী বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দুর্নীতির পেছনে যদি রাজনৈতিক প্রশ্রয় থাকে, তাহলে কোনো উদ্যোগই সফল হবে না। তাই তিনি মনে করেন, জাতীয় সংসদকে এমন একটি জায়গায় পরিণত করতে হবে, যেখানে দুর্নীতির প্রতি কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় সততা নিশ্চিত করতে হলে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। ব্যক্তি পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থান যেন বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে না পারে, সেটিই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
নিজের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল নিজের প্রসঙ্গ টেনে আনা। শফিকুর রহমান বলেন, যদি কোনো দিন দুর্নীতির সঙ্গে তাঁর নিজের সম্পৃক্ততাও প্রমাণিত হয়, তাহলে তাঁর ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া উচিত হবে না।
এই মন্তব্যকে অনেকেই রাজনৈতিক জবাবদিহির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে সবার আগে নিজের জন্যও একই নীতি প্রযোজ্য হতে হবে।
উন্নয়ন বরাদ্দে সমতার দাবি
উন্নয়ন প্রকল্প ও সরকারি বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রেও তিনি সমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা অনেক সময় প্রয়োজনীয় উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হন। এর ফলে সাধারণ মানুষও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সুবিধা থেকে পিছিয়ে পড়েন।
তিনি মনে করেন, উন্নয়ন বরাদ্দ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, বরং জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। তাহলেই সারা দেশে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



























