ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোর বিমানবন্দরে কেন একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হচ্ছে?

যাত্রী কমে যাওয়ায় যশোর বিমানবন্দরে কমেছে ফ্লাইট চলাচল। ছবি: সংগৃহীত

যশোর বিমানবন্দর এখন তীব্র যাত্রীসংকটের মুখে পড়েছে। পদ্মা সেতু এবং সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর পর থেকে যাত্রী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় একের পর এক বেসরকারি এয়ারলাইনস ঢাকা–যশোর রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ ১৬ জুলাই থেকে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস এই রুটে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর ফলে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিমান।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগেও ঢাকা–যশোর রুট ছিল দেশের অন্যতম ব্যস্ত অভ্যন্তরীণ আকাশপথ। ইউএস–বাংলা সপ্তাহে সাত দিন নিয়মিত সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করত। তবে যাত্রী কমতে থাকায় ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়। শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে এই রুট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে নভোএয়ারও একই কারণে ঢাকা–যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়।

ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি ফ্লাইট লাভজনকভাবে পরিচালনার জন্য উড়োজাহাজের অন্তত ৭০ শতাংশ আসন পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন হলেও ঢাকা–যশোর রুটে গড়ে ৫০ শতাংশেরও কম যাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল। ফলে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করেও খরচ উঠে আসছিল না। এই পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রীদের বড় একটি অংশ ট্রেনমুখী হয়ে পড়ে। তুলনামূলক কম খরচ, সহজলভ্যতা এবং নিয়মিত ট্রেন চলাচলের কারণে অনেক যাত্রী আকাশপথের পরিবর্তে রেলপথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে যশোর বিমানবন্দর ধীরে ধীরে যাত্রী হারিয়ে গুরুত্ব কমাতে শুরু করেছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যও একই চিত্র তুলে ধরছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে যশোর বিমানবন্দর ব্যবহার করেছিলেন ৪ লাখ ৫ হাজার ৯০০ যাত্রী। পরের অর্থবছরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ২১ হাজার ৭০ জনে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যাত্রী সংখ্যা আরও কমে মাত্র ৪৮ হাজার ৪০৮ জনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র চার অর্থবছরের ব্যবধানে এই বিমানবন্দর প্রায় সাড়ে তিন লাখের বেশি যাত্রী হারিয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন খাতের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যশোর বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যাত্রীসংকট অব্যাহত থাকলে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর এই রুটে ফিরে আসা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের পরিস্থিতি আগে বরিশাল বিমানবন্দরেও দেখা গিয়েছিল, যেখানে এখন শুধু বাংলাদেশ বিমান সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তাই যশোর বিমানবন্দরেও যাত্রী ফিরিয়ে আনতে নতুন পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোর বিমানবন্দরে কেন একের পর এক ফ্লাইট বন্ধ হচ্ছে?

Update Time : ১১:৩৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

যশোর বিমানবন্দর এখন তীব্র যাত্রীসংকটের মুখে পড়েছে। পদ্মা সেতু এবং সরাসরি রেল যোগাযোগ চালুর পর থেকে যাত্রী সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় একের পর এক বেসরকারি এয়ারলাইনস ঢাকা–যশোর রুটে ফ্লাইট কমিয়ে দিচ্ছে। সর্বশেষ ১৬ জুলাই থেকে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস এই রুটে তাদের সব ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। এর ফলে বর্তমানে সপ্তাহে মাত্র দুটি ফ্লাইট পরিচালনা করছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিমান।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগেও ঢাকা–যশোর রুট ছিল দেশের অন্যতম ব্যস্ত অভ্যন্তরীণ আকাশপথ। ইউএস–বাংলা সপ্তাহে সাত দিন নিয়মিত সাতটি ফ্লাইট পরিচালনা করত। তবে যাত্রী কমতে থাকায় ধাপে ধাপে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো হয়। শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত যাত্রী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে এই রুট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্টে নভোএয়ারও একই কারণে ঢাকা–যশোর রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন  পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয়

ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি ফ্লাইট লাভজনকভাবে পরিচালনার জন্য উড়োজাহাজের অন্তত ৭০ শতাংশ আসন পূর্ণ হওয়া প্রয়োজন হলেও ঢাকা–যশোর রুটে গড়ে ৫০ শতাংশেরও কম যাত্রী পাওয়া যাচ্ছিল। ফলে জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, জনবল ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বহন করেও খরচ উঠে আসছিল না। এই পরিস্থিতিতে সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ করা ছাড়া বিকল্প ছিল না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে যাত্রীদের বড় একটি অংশ ট্রেনমুখী হয়ে পড়ে। তুলনামূলক কম খরচ, সহজলভ্যতা এবং নিয়মিত ট্রেন চলাচলের কারণে অনেক যাত্রী আকাশপথের পরিবর্তে রেলপথ বেছে নিচ্ছেন। ফলে যশোর বিমানবন্দর ধীরে ধীরে যাত্রী হারিয়ে গুরুত্ব কমাতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন, আজ ২২ ক্যারেটের ভরি কত?

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্যও একই চিত্র তুলে ধরছে। ২০২১–২২ অর্থবছরে যশোর বিমানবন্দর ব্যবহার করেছিলেন ৪ লাখ ৫ হাজার ৯০০ যাত্রী। পরের অর্থবছরে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ২১ হাজার ৭০ জনে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে যাত্রী সংখ্যা আরও কমে মাত্র ৪৮ হাজার ৪০৮ জনে নেমে এসেছে। অর্থাৎ মাত্র চার অর্থবছরের ব্যবধানে এই বিমানবন্দর প্রায় সাড়ে তিন লাখের বেশি যাত্রী হারিয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন খাতের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আরও পড়ুন  হিলি স্থলবন্দর আমদানি বাণিজ্যে ভাটা, রাজস্ব আদায় কমেছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে যশোর বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যাত্রীসংকট অব্যাহত থাকলে বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর এই রুটে ফিরে আসা কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই ধরনের পরিস্থিতি আগে বরিশাল বিমানবন্দরেও দেখা গিয়েছিল, যেখানে এখন শুধু বাংলাদেশ বিমান সীমিত আকারে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তাই যশোর বিমানবন্দরেও যাত্রী ফিরিয়ে আনতে নতুন পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের মত।