ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প Logo স্পেন বিশ্বকাপ ইতিহাস: পুরুষ ও নারী বিশ্বকাপ একসঙ্গে জিতে অনন্য নজির Logo যে কারণে বাতিল হলো নিকো উইলিয়ামসের গোল Logo স্পেন বিশ্বকাপ জয়: দুর্দান্ত জয়ে ১৬ বছর পর আবার বিশ্বসেরা Logo অবিস্মরণীয় ফেরান তোরেস বিশ্বকাপ ফাইনাল গোল, স্পেনের ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান Logo যেকোনো সময় হামলার শঙ্কা! বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র Logo বড় সিদ্ধান্ত লিবিয়ার! ডলার ছেড়ে চীনা পেমেন্ট সিস্টেমে যোগ Logo ছাত্রদলের জুলাই আন্দোলন: শক্তিশালী বার্তায় রাকিবুল ইসলামের প্রতিশ্রুতি Logo বার্নিকাট হামলা মামলা: আদালতে আরও দুই সাক্ষীর জবানবন্দি Logo ৫ বছরে দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম, জানাল ডয়চে ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, কেন বাড়ছে খরচ?

বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে পড়তে খরচ গত পাঁচ বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮৮ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার মান, উন্নত ক্যারিয়ার এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের আশায় প্রতি বছর আরও বেশি শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১–২২ অর্থবছরে বিদেশে শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ কোটি ২ লাখ ডলার। পরবর্তী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এই ব্যয় বেড়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৫২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। সর্বশেষ অর্থবছরে এই ব্যয় বেড়ে ৮৮ কোটি ১৭ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। মূলত টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতেই এই অর্থ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ। ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, দেশে শিক্ষার অবকাঠামো উন্নত হলেও মানগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার কার্যকর সংযোগ এখনো দুর্বল। ফলে অভিভাবকেরা উন্নত শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের আশায় সন্তানদের বিদেশে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। আগে যেখানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ছিল প্রধান গন্তব্য, এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

বিদেশে পড়াশোনার জন্য বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ‘স্টুডেন্ট ফাইল’ খোলা বাধ্যতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, ভিসা, শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এই বিশেষ হিসাব চালু করা যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি সরাসরি পরিশোধ এবং নির্ধারিত নিয়মে জীবনযাত্রার ব্যয় বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবার একটি সেমিস্টারের ফি পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সেমিস্টারে উন্নীত হওয়ার প্রমাণ দেখানোর পর নতুন কিস্তির অর্থ পাঠানো যায়।

ব্যাংকগুলো জানাচ্ছে, বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৩৭টি শাখা ও বিশেষায়িত কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার নতুন স্টুডেন্ট ফাইল খোলা হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি ব্যাংকও মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার স্টুডেন্ট ফাইল চালু করছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগে ইউরোপ ও আমেরিকার জন্য আবেদন বেশি থাকলেও এখন দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদেশে পড়াশোনার জন্য ব্যাংকিং সেবা, স্টুডেন্ট ফাইল এবং শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশে যদি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান আরও সম্প্রসারিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিদেশমুখী শিক্ষার্থীর প্রবণতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প

বিদেশে পড়াশোনায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়, কেন বাড়ছে খরচ?

Update Time : ১১:৫৫:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বিদেশে পড়তে খরচ গত পাঁচ বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৮৮ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৯৩৩ কোটি টাকা। মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। উচ্চশিক্ষার মান, উন্নত ক্যারিয়ার এবং আন্তর্জাতিক সুযোগের আশায় প্রতি বছর আরও বেশি শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১–২২ অর্থবছরে বিদেশে শিক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ কোটি ২ লাখ ডলার। পরবর্তী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে এই ব্যয় বেড়েছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে তা দাঁড়ায় ৫২ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার এবং ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। সর্বশেষ অর্থবছরে এই ব্যয় বেড়ে ৮৮ কোটি ১৭ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। মূলত টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতেই এই অর্থ বিদেশে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন  স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের বিদেশমুখী হওয়ার অন্যতম কারণ। ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমানের মতে, দেশে শিক্ষার অবকাঠামো উন্নত হলেও মানগত উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার কার্যকর সংযোগ এখনো দুর্বল। ফলে অভিভাবকেরা উন্নত শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের আশায় সন্তানদের বিদেশে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন। আগে যেখানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র ছিল প্রধান গন্তব্য, এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

আরও পড়ুন  উত্তরবঙ্গের কৃষি ঋণ, ৯% সুদে মিলবে বিশেষ তহবিল

বিদেশে পড়াশোনার জন্য বর্তমানে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ‘স্টুডেন্ট ফাইল’ খোলা বাধ্যতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার, ভিসা, শিক্ষাগত সনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে এই বিশেষ হিসাব চালু করা যায়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি সরাসরি পরিশোধ এবং নির্ধারিত নিয়মে জীবনযাত্রার ব্যয় বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিবার একটি সেমিস্টারের ফি পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সেমিস্টারে উন্নীত হওয়ার প্রমাণ দেখানোর পর নতুন কিস্তির অর্থ পাঠানো যায়।

ব্যাংকগুলো জানাচ্ছে, বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ব্র্যাক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৩৭টি শাখা ও বিশেষায়িত কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার নতুন স্টুডেন্ট ফাইল খোলা হচ্ছে। অন্যদিকে সিটি ব্যাংকও মাসে ৮০০ থেকে ১ হাজার স্টুডেন্ট ফাইল চালু করছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভাষ্য, আগে ইউরোপ ও আমেরিকার জন্য আবেদন বেশি থাকলেও এখন দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দাম কমার পর আজকের সর্বশেষ মূল্য

বর্তমানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ছে। একই সঙ্গে বিদেশে পড়াশোনার জন্য ব্যাংকিং সেবা, স্টুডেন্ট ফাইল এবং শিক্ষা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দেশে যদি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থান আরও সম্প্রসারিত করা যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বিদেশমুখী শিক্ষার্থীর প্রবণতা কিছুটা কমানো সম্ভব হতে পারে।