ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন কনফারেন্স’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন Logo চানাচুর তৈরিতে ভয়াবহ অনিয়ম, পায়ে মাড়িয়ে খামির ও পোড়া তেল Logo সাইফুজ্জামান চৌধুরীর সম্পদ: এফবিআইয়ের তথ্য দুদকে Logo বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগে নতুন নিয়ম, পরীক্ষা বাধ্যতামূলক Logo রামুতে ১৫ একর জমি পেল বাফুফে, এগোচ্ছে ফিফার প্রকল্প Logo পাকিস্তান দলের পরিবর্তন নিয়ে নিজের মতামত জানিয়েছেন শোয়েব আখতার Logo কবজির চোট কাটিয়ে ইউএস ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে আলকারাজ Logo পাকিস্তান দল নিয়ে শোয়েব আখতারের বিস্ফোরক মন্তব্য Logo রোনালদোকে ছাড়িয়ে মেসির পাশে রাফিনিয়া, বার্সার হয়ে গড়লেন দুর্দান্ত রেকর্ড Logo ১২ বছর পর ইংল্যান্ড দলে ফিরলেন পিটারসেন, বিশ্বকাপের আগে বড় দায়িত্ব

আইসক্রিম বাজার দ্রুত দ্বিগুণ: ৫ বছরে ৩৫০০ কোটি টাকার শিল্পে স্বাদের চমক

আধুনিক প্রযুক্তিতে বাড়ছে আইসক্রিম উৎপাদন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের আইসক্রিম বাজার গত পাঁচ বছরে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একসময় শুধুই শিশুদের পছন্দের খাবার হিসেবে পরিচিত আইসক্রিম এখন হাজার কোটি টাকার শিল্পে পরিণত হয়েছে। নতুন নতুন স্বাদ, আধুনিক প্রযুক্তি, করপোরেট বিনিয়োগ এবং দীর্ঘায়িত গ্রীষ্ম—সব মিলিয়ে দেশের আইসক্রিম শিল্পে এসেছে বড় পরিবর্তন।

২০২১ সালে দেশের আইসক্রিম বাজারের আকার ছিল প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে। বর্তমানে সেই বাজার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, প্রতিবছর গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় আইসক্রিম বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।


দীর্ঘ গ্রীষ্ম বাড়িয়েছে বিক্রি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে গরমের সময়সীমা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ছিল আইসক্রিমের প্রধান মৌসুম, এখন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা থাকে।

এতে কোম্পানিগুলো দীর্ঘ সময় উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। ফলে অফ-সিজনের ক্ষতি অনেকটাই কমে এসেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ আইসক্রিম বিক্রিতে নতুন রেকর্ড গড়তে সহায়তা করছে।


 নতুন স্বাদে জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা

বর্তমান প্রজন্ম শুধু ভ্যানিলা বা স্ট্রবেরিতেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন বাজারে এসেছে বেলজিয়ান ডার্ক চকলেট, পিস্তা, কুনাফাসহ নানা প্রিমিয়াম ফিউশন ফ্লেভার।

বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো গবেষণা ও নতুন পণ্য উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। সুপারশপ থেকে শুরু করে স্থানীয় দোকানেও এখন প্রিমিয়াম আইসক্রিমের আলাদা কর্নার দেখা যাচ্ছে। ফলে আইসক্রিম বাজার আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।


 বিনিয়োগ বাড়লেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ

দেশীয় কোম্পানিগুলো নতুন স্বয়ংক্রিয় কারখানা নির্মাণ করেছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। তবে উৎপাদনের মূল কাঁচামালের বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কোল্ড চেইন বজায় রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


 সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের নীতিগত সহায়তা, উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা এবং দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন বাড়ানো গেলে আইসক্রিম বাজার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে আগামী কয়েক বছরে এই শিল্প দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাদ্যশিল্প হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। নতুন স্বাদ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাড়তে থাকা ভোক্তা চাহিদা বাংলাদেশের আইসক্রিম শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে ‘রাহমাতুল্লিল আলামিন কনফারেন্স’ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

আইসক্রিম বাজার দ্রুত দ্বিগুণ: ৫ বছরে ৩৫০০ কোটি টাকার শিল্পে স্বাদের চমক

Update Time : ০৪:২২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের আইসক্রিম বাজার গত পাঁচ বছরে অভাবনীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। একসময় শুধুই শিশুদের পছন্দের খাবার হিসেবে পরিচিত আইসক্রিম এখন হাজার কোটি টাকার শিল্পে পরিণত হয়েছে। নতুন নতুন স্বাদ, আধুনিক প্রযুক্তি, করপোরেট বিনিয়োগ এবং দীর্ঘায়িত গ্রীষ্ম—সব মিলিয়ে দেশের আইসক্রিম শিল্পে এসেছে বড় পরিবর্তন।

২০২১ সালে দেশের আইসক্রিম বাজারের আকার ছিল প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকার মধ্যে। বর্তমানে সেই বাজার প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বিভিন্ন বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, প্রতিবছর গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের আয় বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় আইসক্রিম বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। আগামী কয়েক বছরেও এই প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।


দীর্ঘ গ্রীষ্ম বাড়িয়েছে বিক্রি

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশে গরমের সময়সীমা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ছিল আইসক্রিমের প্রধান মৌসুম, এখন সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত চাহিদা থাকে।

এতে কোম্পানিগুলো দীর্ঘ সময় উৎপাদন ও বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। ফলে অফ-সিজনের ক্ষতি অনেকটাই কমে এসেছে। তীব্র তাপপ্রবাহ আইসক্রিম বিক্রিতে নতুন রেকর্ড গড়তে সহায়তা করছে।


 নতুন স্বাদে জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা

বর্তমান প্রজন্ম শুধু ভ্যানিলা বা স্ট্রবেরিতেই সীমাবদ্ধ নেই। এখন বাজারে এসেছে বেলজিয়ান ডার্ক চকলেট, পিস্তা, কুনাফাসহ নানা প্রিমিয়াম ফিউশন ফ্লেভার।

বড় বড় ব্র্যান্ডগুলো গবেষণা ও নতুন পণ্য উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করছে। সুপারশপ থেকে শুরু করে স্থানীয় দোকানেও এখন প্রিমিয়াম আইসক্রিমের আলাদা কর্নার দেখা যাচ্ছে। ফলে আইসক্রিম বাজার আরও বৈচিত্র্যময় হয়ে উঠছে।


 বিনিয়োগ বাড়লেও রয়েছে বড় চ্যালেঞ্জ

দেশীয় কোম্পানিগুলো নতুন স্বয়ংক্রিয় কারখানা নির্মাণ করেছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়িয়েছে। তবে উৎপাদনের মূল কাঁচামালের বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় কোল্ড চেইন বজায় রাখা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।


 সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের নীতিগত সহায়তা, উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা এবং দেশীয় দুগ্ধ উৎপাদন বাড়ানো গেলে আইসক্রিম বাজার আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে।

বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে আগামী কয়েক বছরে এই শিল্প দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাদ্যশিল্প হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। নতুন স্বাদ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং বাড়তে থাকা ভোক্তা চাহিদা বাংলাদেশের আইসক্রিম শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।