ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ধর্মপুর বাজার এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় এক নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁর কাছ থেকে আটটি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গ্রেপ্তার হওয়া শাকিল খান (২৬) সুন্দরগঞ্জ উপজেলা এনসিপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সীচা গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার দিবাগত রাতে নিয়মিত অভিযানের সময় ধর্মপুর বাজারের জোবেদা ফিলিং স্টেশন এলাকায় সন্দেহজনক অবস্থায় তাঁকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে। সোমবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে আদালতের নির্দেশে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুন্দরগঞ্জ থানার কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা।
এ ঘটনার পরপরই দলীয়ভাবে কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গাইবান্ধা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী শাকিল খানকে সব ধরনের সাংগঠনিক দায়িত্ব ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তর) রাশেদুল ইসলামের স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাকিল খানের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর কর্মকাণ্ড দলের নীতি, আদর্শ ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। এ কারণে তাঁর সঙ্গে দলের কোনো সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইয়াবাসহ এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার হওয়ার এই ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযান, অন্যদিকে অভিযোগ ওঠার পরপরই দলের দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া—দুটি বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তদন্ত শেষে আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে।



























