জয়া আহসানের নতুন সিনেমা ‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ মুক্তির পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সিনেমাপ্রেমী ও সমালোচকদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলির এই সিনেমাটি ২০২৩ সালের জনপ্রিয় ছবি ‘অর্ধাঙ্গিনী’-এর সিক্যুয়েল। আগের ছবির মতো এবারও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান।
১০ জুলাই পশ্চিমবঙ্গে মুক্তির পর সিনেমাটি দর্শকদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, একাধিক হলে ছবির শো হাউসফুল যাচ্ছে। পাশাপাশি ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমেও জয়ার অভিনয় নিয়ে প্রশংসার ঢেউ উঠেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন তাদের রিভিউতে লিখেছে, মেঘনা চরিত্রে জয়া আহসান যেন একদম স্বাভাবিক ও নিখুঁত। তাদের মতে, জয়ার অভিনয়ের আবেগ, সংযম এবং চরিত্রের ভেতরের অনুভূতি দর্শকদের গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। পুরো সিনেমাজুড়েই তাঁর উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
অন্যদিকে দ্য ওয়াল লিখেছে, সংলাপ তুলনামূলক কম হলেও জয়ার অভিনয় দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। অপরাধবোধ, ভালোবাসা, দ্বিধা এবং মানসিক টানাপোড়েনের মতো জটিল অনুভূতিগুলো তিনি সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে চূর্ণী গাঙ্গুলির সঙ্গে তাঁর দৃশ্যগুলো ছবির আবেগকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তবে সব সমালোচনা যে একেবারে একপাক্ষিক প্রশংসায় ভরা, তা নয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া মনে করেছে, জয়া তাঁর অভিনয়ে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দেখালেও ‘মেঘনা’ চরিত্রটির নির্মাণে কিছু দুর্বলতা রয়েছে। তাদের মতে, চরিত্রটির আবেগের যাত্রা কিছু জায়গায় জটিল হয়ে যাওয়ায় দর্শকের সঙ্গে সংযোগ কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে জয়ার কোনো ঘাটতি তারা খুঁজে পায়নি।
দ্য টেলিগ্রাফ-এর মূল্যায়নেও উঠে এসেছে জয়ার সংযত অভিনয়ের প্রশংসা। তাদের ভাষ্য, প্রথম সিনেমার তুলনায় এই পর্বে চরিত্রটি আবেগ প্রকাশের সুযোগ কম পেলেও জয়া খুব বিশ্বাসযোগ্যভাবে সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
এদিকে আরও আনন্দ-এর রিভিউতেও বলা হয়েছে, ‘মেঘনা’ চরিত্রটি ছবি শেষ হওয়ার পরও দর্শকের মনে থেকে যায়। জয়ার অভিনয়ের কারণেই চরিত্রটির প্রতি আলাদা ভালোবাসা তৈরি হয়।
নিজেও এই চরিত্র নিয়ে আগে কথা বলেছেন জয়া আহসান। তাঁর ভাষায়, সময়ের সঙ্গে মেঘনা চরিত্রটি আরও পরিণত হয়েছে। পরিবারে নিজের জায়গা তৈরি করেছে, আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, কিন্তু নতুন পরিস্থিতি ও সম্পর্কের টানাপোড়েন আবারও তাকে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সেই পরিবর্তিত মানসিক যাত্রাই এই সিনেমার মূল আকর্ষণ।
‘আজও অর্ধাঙ্গিনী’ শুধু একটি পারিবারিক গল্প নয়, বরং সম্পর্ক, ক্ষমা, ভালোবাসা এবং মানসিক পরিবর্তনের গল্পও তুলে ধরেছে। কৌশিক গাঙ্গুলির নির্মাণশৈলী এবং জয়া আহসানের সংযত অভিনয়ের সমন্বয়ে ছবিটি ইতোমধ্যেই সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বাংলাদেশি অভিনেত্রী হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে জয়া আহসানের ধারাবাহিক সাফল্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দুই বাংলার দর্শকদের কাছে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেছেন। নতুন এই সিনেমাও সেই সফল যাত্রায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন বলেই মনে করছেন চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা।




























