ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করছেন ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন তিনি। তার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের অনেক গ্রাম দীর্ঘ সময় পানিবন্দি ছিল। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অনেকের বসতঘরে পানি ঢুকে খাদ্য, পোশাক, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, কৃষক এবং শ্রমজীবী পরিবারগুলো। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরে খাবারও ফুরিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। ত্রাণ প্যাকেজে ছিল বিশুদ্ধ পানি, ৩ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু এবং ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য রান্না করা বিরিয়ানি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষের জন্য আলাদাভাবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় রান্না করার মতো পরিবেশ ছিল না। চুলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষ শুকনো খাবার কিংবা অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় রান্না করা খাবার বিতরণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দেয়।

ত্রাণ গ্রহণকারী কয়েকজন বলেন, শুধু ত্রাণ পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য; তিনি মানুষের কষ্টের কথা শুনেছেন, তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে দুর্গত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণের পর ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য সাঙ্গু নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি নদীভাঙনের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িঘর ঘুরে দেখেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা জানান, নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের ধানক্ষেত ও সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। মাছের ঘের, গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবারের কাঁচা ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে সহায়তার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাতকানিয়ার মানুষ এক কঠিন সময় পার করছেন। আমি বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আগামী দিনেও সাতকানিয়ার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা ব্যারিস্টার পল্লব আচার্যের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, দুর্যোগের সময়ে শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করলে অনেক পরিবার তাৎক্ষণিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। তারা ত্রাণসামগ্রী পরিবহন, তালিকা প্রস্তুত এবং দুর্গত মানুষের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের কাজ করেন। এতে কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ বাসস্থান, কৃষি পুনর্বাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ঋণ এবং সাঙ্গু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগ আবারও দেখা দিতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, বন্যার ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি এবং কার্যকর অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই।

এদিকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনও কাদা, নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়ক এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্যের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে আশার বার্তা হয়ে এসেছে। সংকটের এই সময়ে তার সহায়তা শুধু খাদ্য নয়, দুর্গত মানুষের মনে সাহস ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার মতো আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূগর্ভস্থ পানিতে নতুন হুমকি, ম্যাঙ্গানিজে ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

Update Time : ১১:২৬:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী, বিশুদ্ধ পানি এবং রান্না করা খাবার বিতরণ করেছেন তিনি। তার এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের অনেক গ্রাম দীর্ঘ সময় পানিবন্দি ছিল। বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। অনেকের বসতঘরে পানি ঢুকে খাদ্য, পোশাক, আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।

এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েন নিম্ন আয়ের মানুষ, দিনমজুর, কৃষক এবং শ্রমজীবী পরিবারগুলো। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের ঘরে খাবারও ফুরিয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসেন ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য।

ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে তিনি নিজেই উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। ত্রাণ প্যাকেজে ছিল বিশুদ্ধ পানি, ৩ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু এবং ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য রান্না করা বিরিয়ানি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ মানুষের জন্য আলাদাভাবে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়।

আরও পড়ুন  এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত, বন্যায় ৫ জেলার পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় রান্না করার মতো পরিবেশ ছিল না। চুলা পানিতে ডুবে যাওয়ায় মানুষ শুকনো খাবার কিংবা অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এমন অবস্থায় রান্না করা খাবার বিতরণ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক স্বস্তি এনে দেয়।

ত্রাণ গ্রহণকারী কয়েকজন বলেন, শুধু ত্রাণ পাঠিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য; তিনি মানুষের কষ্টের কথা শুনেছেন, তাদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে দুর্গত মানুষের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে।

ত্রাণ বিতরণের পর ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য সাঙ্গু নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তিনি নদীভাঙনের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িঘর ঘুরে দেখেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।

পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা জানান, নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক কৃষকের ধানক্ষেত ও সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। মাছের ঘের, গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক পরিবারের কাঁচা ঘর আংশিক বা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

আরও পড়ুন  বগুড়ায় ‘অতিথি সেজে বাড়িতে ঢুকে’ অবসরপ্রাপ্ত নারী ব্যাংক কর্মকর্তাকে গলা কেটে হত্যা

ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি মানবিক কর্তব্য। আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে সহায়তার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আরও বেশি করে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাতকানিয়ার মানুষ এক কঠিন সময় পার করছেন। আমি বিশ্বাস করি, সবাই মিলে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তারা দ্রুত এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন। আগামী দিনেও সাতকানিয়ার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকরা ব্যারিস্টার পল্লব আচার্যের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, দুর্যোগের সময়ে শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করলে অনেক পরিবার তাৎক্ষণিক সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হয়। তাই ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন। তারা ত্রাণসামগ্রী পরিবহন, তালিকা প্রস্তুত এবং দুর্গত মানুষের মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের কাজ করেন। এতে কার্যক্রম দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন পরিকল্পনাও জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ বাসস্থান, কৃষি পুনর্বাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ ঋণ এবং সাঙ্গু নদীর ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী বর্ষায় একই ধরনের দুর্ভোগ আবারও দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন  ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগানে উত্তাল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড চত্বর

স্থানীয়দের দাবি, সাঙ্গু নদীর ভাঙনরোধে স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা উন্নত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। তারা মনে করেন, বন্যার ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি এবং কার্যকর অবকাঠামো নির্মাণের বিকল্প নেই।

এদিকে বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনও কাদা, নষ্ট হয়ে যাওয়া সড়ক এবং বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, চর্মরোগ ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাই বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সাতকানিয়ার বন্যাকবলিত মানুষের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্যের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের কাছে আশার বার্তা হয়ে এসেছে। সংকটের এই সময়ে তার সহায়তা শুধু খাদ্য নয়, দুর্গত মানুষের মনে সাহস ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার মতো আরও ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে বন্যাকবলিত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে এবং তারা দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন।