ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক আটক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৮

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে প্রতারণার অভিযুক্ত মোশাররফ। ছবিটি: সংগৃহীত

নিজেকে কখনো প্রশাসন ক্যাডার, কখনো পুলিশ কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ করে বিশ্বাস অর্জনের পর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত দিনাজপুর শহরে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মোশাররফ হোসেন (২৮)।

পুলিশ জানায়, মোশাররফের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার এবং ৪৯তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন।

ছাত্রাবাসের বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দেওয়ায় শুরু থেকেই তাঁকে সম্মানের চোখে দেখতেন সবাই। তবে কয়েক দিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা থাকার তথ্য জানতে পারেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মোশাররফ ছাত্রাবাস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। পরে নিজের মালামাল নিতে মঙ্গলবার ভোরে আবার সেখানে এলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁর দেওয়া নানা তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একসময় তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত। এরপর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মোশাররফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দামি পোশাক পরে বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করতেন। এসব ছবি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি তরুণীদের আস্থা অর্জন করতেন। পরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মোশাররফ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী সামনে আসেন। রাঙামাটি থেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করা এক তরুণী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরে পৌঁছান। একই সঙ্গে নীলফামারী থেকে আরেক তরুণীর অভিভাবক দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের হাতে থাকা মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একাধিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থের পরিমাণ কোনো ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা, আবার কোনো ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল। এসব লেনদেনের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোশাররফের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। এছাড়া নীলফামারী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সংগ্রহ করে পুরো ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক আটক

বিসিএস ক্যাডার পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক আটক

Update Time : ০৫:০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নিজেকে কখনো প্রশাসন ক্যাডার, কখনো পুলিশ কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিলেন এক যুবক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় জীবনযাপনের ছবি প্রকাশ করে বিশ্বাস অর্জনের পর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত দিনাজপুর শহরে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন মোশাররফ হোসেন (২৮)।

পুলিশ জানায়, মোশাররফের বাড়ি দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার ইসবপুর ইউনিয়নের নওখৈর গ্রামে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর শহরের কালুর মোড় এলাকার একটি ছাত্রাবাস থেকে তাঁকে আটক করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময় নিজেকে ৪৬তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার, ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডার এবং ৪৯তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে পরিচয় দিতেন।

আরও পড়ুন  চকরিয়ায় কাভার্ড ভ্যান-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

ছাত্রাবাসের বাসিন্দাদের ভাষ্য, বিসিএস ক্যাডার পরিচয় দেওয়ায় শুরু থেকেই তাঁকে সম্মানের চোখে দেখতেন সবাই। তবে কয়েক দিন আগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা থাকার তথ্য জানতে পারেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মোশাররফ ছাত্রাবাস ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। পরে নিজের মালামাল নিতে মঙ্গলবার ভোরে আবার সেখানে এলে শিক্ষার্থীরা তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁর দেওয়া নানা তথ্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে। একসময় তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত। এরপর শিক্ষার্থীরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মোশাররফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দামি পোশাক পরে বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করতেন। এসব ছবি ও ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তিনি তরুণীদের আস্থা অর্জন করতেন। পরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁদের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন  শহীদ মিনারে কারিনা কায়সারের জানাজা, রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতি

মোশাররফ আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী সামনে আসেন। রাঙামাটি থেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করা এক তরুণী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরে পৌঁছান। একই সঙ্গে নীলফামারী থেকে আরেক তরুণীর অভিভাবক দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের হাতে থাকা মোবাইল ফোন পর্যালোচনায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে একাধিক আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থের পরিমাণ কোনো ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা, আবার কোনো ক্ষেত্রে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ছিল। এসব লেনদেনের তথ্য যাচাই করে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  প্রতি ডিমে ৪ টাকা লোকসান, দাবি খামারিদের

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, মোশাররফের বিরুদ্ধে কক্সবাজার থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। এছাড়া নীলফামারী সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, নতুন করে পাওয়া অভিযোগগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। প্রতারণার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সংগ্রহ করে পুরো ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।