ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ Logo জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস: প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে Logo এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার, বিএফআইইউ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি Logo রুনা লায়লার কনসার্ট এবার শুধু সংগীতের আসর নয়,একটি মানবিক উদ্যোগ। Logo ইরান যুদ্ধের খরচে চাপে পেন্টাগন, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের দাবি Logo স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, আজ থেকে কার্যকর নতুন দর Logo ডলার রেট আজ: কত টাকায় মিলছে ডলার-ইউরো-রুপি? Logo ১৪ বছরের অভিনয় জীবনের সেরা স্বীকৃতি পেলেন ইয়ামি গৌতম Logo বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৬

কাচের বোতলে উৎপাদিত টিস্যু কালচার চারা এখন বাণিজ্যিক কৃষির নতুন সম্ভাবনা। ছবি: সংগৃহীত

টিস্যু কালচার চারা এখন বাংলাদেশের কৃষিতে নীরব এক বিপ্লবের নাম। গবেষণাগারের ছোট্ট কাচের বোতলে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র উদ্ভিদ টিস্যু কয়েক মাসের মধ্যেই রূপ নিচ্ছে হাজার হাজার রোগমুক্ত চারায়। এই প্রযুক্তির কারণে কলা, আনারস, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, অর্কিড, লিলিয়াম, জারবেরা ও স্টেভিয়ার মতো উচ্চমূল্যের ফসলের উন্নত চারা এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে বিদেশি চারার ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কৃষকেরা তুলনামূলক কম খরচে উন্নত মানের চারা পাচ্ছেন।

দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক কৃষিতে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একটি মাত্র সুস্থ মাতৃগাছের টিস্যু থেকে অল্প জায়গায় লাখ লাখ রোগমুক্ত চারা তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কৃষিতে এই প্রযুক্তি আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

বর্তমানে মাদারীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহের আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব থেকে বিপুল পরিমাণ উন্নত চারা উৎপাদন হচ্ছে। মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রি করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই প্রতিষ্ঠানটি দুই লাখের বেশি চারা বিক্রি করে সরকারের আয় করেছে ৫২ লাখ টাকারও বেশি। নতুন আরও আটটি জেলায় ল্যাব নির্মাণের কাজ শেষ হলে বছরে প্রায় এক কোটি রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে।

মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির সুফলও স্পষ্ট। জি-৯ জাতের কলার প্রতিটি ছড়িতে যেখানে ৩০০টির কাছাকাছি কলা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে প্রচলিত জাতের কলায় ফলন অনেক কম। অন্যদিকে জারবেরা ফুলের মতো বাণিজ্যিক চাষেও দেশীয় টিস্যু কালচার চারা ব্যবহার করে উদ্যোক্তারা কম খরচে ভালো লাভ করছেন। আগে যে চারা বিদেশ থেকে বেশি দামে আমদানি করতে হতো, এখন সেটিই দেশেই সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে গত অর্থবছরে চারা বিক্রি করে সরকারের আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত মানের চারা উৎপাদনের সমন্বয়ে দেশের কৃষি এখন নতুন এক সম্ভাবনার পথে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলে বাংলাদেশের কৃষি আরও প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক হয়ে উঠবে।

বিদেশি চারার বিকল্প হিসেবে দেশীয় টিস্যু কালচার চারা ইতোমধ্যে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন করেছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, রোগমুক্ত চারা নিশ্চিত করা এবং ফলন বাড়ানোর মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দেশের বাণিজ্যিক কৃষিকে আরও টেকসই ও আধুনিক করে তুলছে। আগামী কয়েক বছরে নতুন ল্যাব চালু হলে কৃষি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ

টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি

Update Time : ০১:০৫:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

টিস্যু কালচার চারা এখন বাংলাদেশের কৃষিতে নীরব এক বিপ্লবের নাম। গবেষণাগারের ছোট্ট কাচের বোতলে জন্ম নেওয়া ক্ষুদ্র উদ্ভিদ টিস্যু কয়েক মাসের মধ্যেই রূপ নিচ্ছে হাজার হাজার রোগমুক্ত চারায়। এই প্রযুক্তির কারণে কলা, আনারস, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, অর্কিড, লিলিয়াম, জারবেরা ও স্টেভিয়ার মতো উচ্চমূল্যের ফসলের উন্নত চারা এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে বিদেশি চারার ওপর নির্ভরতা কমছে, আর কৃষকেরা তুলনামূলক কম খরচে উন্নত মানের চারা পাচ্ছেন।

দেশের কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক কৃষিতে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একটি মাত্র সুস্থ মাতৃগাছের টিস্যু থেকে অল্প জায়গায় লাখ লাখ রোগমুক্ত চারা তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় উৎপাদনশীলতা বাড়ছে এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক কৃষিতে এই প্রযুক্তি আরও বড় ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন  আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি করছে সরকার

বর্তমানে মাদারীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহের আধুনিক টিস্যু কালচার ল্যাব থেকে বিপুল পরিমাণ উন্নত চারা উৎপাদন হচ্ছে। মাদারীপুর হর্টিকালচার সেন্টার ইতোমধ্যে সবচেয়ে বেশি চারা বিক্রি করে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। শুধু ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই প্রতিষ্ঠানটি দুই লাখের বেশি চারা বিক্রি করে সরকারের আয় করেছে ৫২ লাখ টাকারও বেশি। নতুন আরও আটটি জেলায় ল্যাব নির্মাণের কাজ শেষ হলে বছরে প্রায় এক কোটি রোগমুক্ত চারা উৎপাদনের লক্ষ্য বাস্তবায়ন হবে।

আরও পড়ুন  মাছের বাজারে আগুন, রাজধানীতে স্বস্তি কেবল সবজিতে

মাঠপর্যায়ে এই প্রযুক্তির সুফলও স্পষ্ট। জি-৯ জাতের কলার প্রতিটি ছড়িতে যেখানে ৩০০টির কাছাকাছি কলা পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে প্রচলিত জাতের কলায় ফলন অনেক কম। অন্যদিকে জারবেরা ফুলের মতো বাণিজ্যিক চাষেও দেশীয় টিস্যু কালচার চারা ব্যবহার করে উদ্যোক্তারা কম খরচে ভালো লাভ করছেন। আগে যে চারা বিদেশ থেকে বেশি দামে আমদানি করতে হতো, এখন সেটিই দেশেই সহজে পাওয়া যাচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশের ৭৬টি হর্টিকালচার সেন্টার থেকে গত অর্থবছরে চারা বিক্রি করে সরকারের আয় হয়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত মানের চারা উৎপাদনের সমন্বয়ে দেশের কৃষি এখন নতুন এক সম্ভাবনার পথে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশা, টিস্যু কালচার প্রযুক্তির বিস্তার ঘটলে বাংলাদেশের কৃষি আরও প্রতিযোগিতামূলক ও লাভজনক হয়ে উঠবে।

আরও পড়ুন  বিজিএমইএ-এইচএসবিসি চুক্তি: নতুন বাজারে পোশাক রপ্তানির বড় সুযোগ

বিদেশি চারার বিকল্প হিসেবে দেশীয় টিস্যু কালচার চারা ইতোমধ্যে কৃষক ও উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন করেছে। উৎপাদন ব্যয় কমানো, রোগমুক্ত চারা নিশ্চিত করা এবং ফলন বাড়ানোর মাধ্যমে এই প্রযুক্তি দেশের বাণিজ্যিক কৃষিকে আরও টেকসই ও আধুনিক করে তুলছে। আগামী কয়েক বছরে নতুন ল্যাব চালু হলে কৃষি খাতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।