ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo হাজিরা দিতে এসে জালনোটসহ ধরা পড়লেন মামলার আসামি Logo দিল্লিতে ১৬ মেট্রোস্টেশন বন্ধ, সিজেপির কর্মসূচিতে ভোগান্তি Logo প্রিয়জনকে খুশি করতে উপহার বাছাইয়ে যেসব বিষয় রাখবেন গুরুত্বে Logo আতিফ আসলাম ঢাকায়, শুক্রবার কনসার্ট নিয়ে বড় সুখবর Logo পরীমণি বিশ্বকাপ ফাইনাল: ‘ফাইনালডাও বাতিল কইরা দে’ পোস্ট ভাইরাল Logo চন্দনাইশে আসহাব সিরাজ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভা Logo কর্টিসল ডিটক্স কি সত্যিই সম্ভব? জানুন বিশেষজ্ঞের মত Logo ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন সরাচ্ছেন না মোদি? নেপথ্যের ৫ কারণ Logo নিজের মানসিক শক্তি ধরে রাখতে যে ৫ অভ্যাস জরুরি Logo হুতিদের নতুন হুমকি! পথ বদলাতে বাধ্য সৌদি তেলের ট্যাংকার

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন সরাচ্ছেন না মোদি? নেপথ্যের ৫ কারণ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫৬০

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে নিট পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিরোধী দলগুলোর চাপ এবং সংসদে অচলাবস্থার মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চললেও কেন্দ্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে সরকারের কৌশল, বিজেপির সাংগঠনিক স্বার্থ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থান।

শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করলে পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে—এমন যুক্তি সামনে আনছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং বিরোধী দলগুলো। তাঁদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় এড়াতে পারেন না ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত এই দাবিতে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রথম কারণ মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। গত এক যুগে সরকার বিরোধীদের চাপের মুখে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেনি। আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা খুবই সীমিত। কৃষি আইন প্রত্যাহার ছিল এর একমাত্র বড় ব্যতিক্রম।

২০২০ সালে তিনটি কৃষি আইন পাস হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছরের আন্দোলনের মুখে ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইনগুলো প্রত্যাহার করেন। তবে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, সিএএ, এনআরসি কিংবা ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরকার কখনোই পিছু হটেনি। এই ধারাবাহিকতা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ক্ষেত্রেও বজায় রাখতে চাইছে কেন্দ্র।

২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক মন্তব্যে বলেছিলেন, এটি এনডিএ সরকার, এখানে বিরোধীরা চাইলে কাউকে পদত্যাগ করাতে পারে না। এরপর একাধিক বিতর্কে তদন্ত, আলোচনা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিরোধীদের দাবিতে কোনো মন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়নি। এই রাজনৈতিক বার্তাই এখনো বহাল রয়েছে।

রেল দুর্ঘটনার পরও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে সরানো হয়নি। একইভাবে অন্যান্য বিতর্কেও সরকার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছে নিজেদের রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে সেটি সরকারের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক গুরুত্ব। ওডিশার এই নেতা শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অন্যতম বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী। বিজেপির নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

ওডিশায় দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের আধিপত্য ভাঙতে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সামনে রেখেই সংগঠন শক্তিশালী করে বিজেপি। শুধু ওডিশাই নয়, বিহার, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশের নির্বাচনী কৌশলেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। ফলে তাঁকে সরানো মানে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদকে হারানো।

তৃতীয় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্নকে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে নিট পরীক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় সরকার কার্যত স্বীকার করে নেবে। এতে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সরকার অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে পরীক্ষা বাতিল, তদন্ত কিংবা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কখনোই শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করেনি। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো হলে সেটি সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

চতুর্থ কারণ হিসেবে রাজনৈতিক সমীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী অনগ্রসর নেতা। ওডিশা ও বিহারে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে দলটি মনে করে। সামাজিক সমীকরণ ধরে রাখতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে অনগ্রসর ভোটব্যাংকের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। পূর্ব ভারতে বিজেপির সামাজিক ভিত্তিও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দলীয় নেতৃত্ব।

পঞ্চম কারণ হলো, বিজেপির মতে মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন বা কে বাদ যাবেন, সেটি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। আন্দোলন বা বিরোধীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দাবিতে সরকারকে আরও বেশি চাপে পড়তে হতে পারে। তাই সরকার এই নজির তৈরি করতে চাইছে না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয় এবং আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সরকারের অবস্থান বদলাতেও পারে। কৃষি আইন আন্দোলনের সময় যেমন শেষ পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিল, তেমনি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপাতত অবশ্য মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের দাবিতে অনড়, আর শিক্ষার্থী ও বিরোধীরাও তাঁদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।

জনপ্রিয় সংবাদ

হাজিরা দিতে এসে জালনোটসহ ধরা পড়লেন মামলার আসামি

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে কেন সরাচ্ছেন না মোদি? নেপথ্যের ৫ কারণ

Update Time : ০৯:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতে নিট পরীক্ষাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, বিরোধী দলগুলোর চাপ এবং সংসদে অচলাবস্থার মধ্যেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণে রাজি নয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চললেও কেন্দ্রের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে সরকারের কৌশল, বিজেপির সাংগঠনিক স্বার্থ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক অবস্থান।

শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ করলে পরিস্থিতি শান্ত হতে পারে—এমন যুক্তি সামনে আনছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী এবং বিরোধী দলগুলো। তাঁদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা পরিচালনায় অনিয়ম এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় এড়াতে পারেন না ধর্মেন্দ্র প্রধান। কিন্তু সরকার এখন পর্যন্ত এই দাবিতে কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, এর প্রথম কারণ মোদি সরকারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান। গত এক যুগে সরকার বিরোধীদের চাপের মুখে কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগে বাধ্য করেনি। আন্দোলনের মুখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘটনা খুবই সীমিত। কৃষি আইন প্রত্যাহার ছিল এর একমাত্র বড় ব্যতিক্রম।

২০২০ সালে তিনটি কৃষি আইন পাস হওয়ার পর দীর্ঘ এক বছরের আন্দোলনের মুখে ২০২১ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আইনগুলো প্রত্যাহার করেন। তবে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, সিএএ, এনআরসি কিংবা ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরকার কখনোই পিছু হটেনি। এই ধারাবাহিকতা ধর্মেন্দ্র প্রধানের ক্ষেত্রেও বজায় রাখতে চাইছে কেন্দ্র।

আরও পড়ুন  পূর্ণকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার, নির্বাচিত হলে-ড. খলিলুর রহমানের

২০১৫ সালে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এক মন্তব্যে বলেছিলেন, এটি এনডিএ সরকার, এখানে বিরোধীরা চাইলে কাউকে পদত্যাগ করাতে পারে না। এরপর একাধিক বিতর্কে তদন্ত, আলোচনা কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিরোধীদের দাবিতে কোনো মন্ত্রীকে অপসারণ করা হয়নি। এই রাজনৈতিক বার্তাই এখনো বহাল রয়েছে।

রেল দুর্ঘটনার পরও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে সরানো হয়নি। একইভাবে অন্যান্য বিতর্কেও সরকার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করেছে নিজেদের রাজনৈতিক বিবেচনায়। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে সেটি সরকারের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উঠে আসছে ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক গুরুত্ব। ওডিশার এই নেতা শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অন্যতম বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী। বিজেপির নির্বাচনী কৌশল বাস্তবায়নে তাঁর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন  ৪০ ডিগ্রি তাপেও অনড় ‘তেলাপোকা’ আন্দোলন, উত্তপ্ত দিল্লি

ওডিশায় দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের আধিপত্য ভাঙতে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সামনে রেখেই সংগঠন শক্তিশালী করে বিজেপি। শুধু ওডিশাই নয়, বিহার, হরিয়ানা এবং উত্তর প্রদেশের নির্বাচনী কৌশলেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত। ফলে তাঁকে সরানো মানে সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ কৌশলবিদকে হারানো।

তৃতীয় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তির প্রশ্নকে। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে নিট পরীক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংকটের দায় সরকার কার্যত স্বীকার করে নেবে। এতে জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) এবং ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) কার্যকারিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

সরকার অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস বা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠলে পরীক্ষা বাতিল, তদন্ত কিংবা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু কখনোই শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করেনি। ফলে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো হলে সেটি সরকারের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হবে।

চতুর্থ কারণ হিসেবে রাজনৈতিক সমীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী অনগ্রসর নেতা। ওডিশা ও বিহারে বিজেপির সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য বলে দলটি মনে করে। সামাজিক সমীকরণ ধরে রাখতে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরও পড়ুন  পদত্যাগ করছেন কিয়ার স্টারমার? কী হবে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দিলে অনগ্রসর ভোটব্যাংকের কাছে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। পূর্ব ভারতে বিজেপির সামাজিক ভিত্তিও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই ঝুঁকি নিতে রাজি নয় দলীয় নেতৃত্ব।

পঞ্চম কারণ হলো, বিজেপির মতে মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন বা কে বাদ যাবেন, সেটি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। আন্দোলন বা বিরোধীদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করলে ভবিষ্যতে একই ধরনের দাবিতে সরকারকে আরও বেশি চাপে পড়তে হতে পারে। তাই সরকার এই নজির তৈরি করতে চাইছে না।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি যদি আরও জটিল হয় এবং আন্দোলন দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সরকারের অবস্থান বদলাতেও পারে। কৃষি আইন আন্দোলনের সময় যেমন শেষ পর্যন্ত সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছিল, তেমনি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও ধর্মেন্দ্র প্রধানের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপাতত অবশ্য মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণের দাবিতে অনড়, আর শিক্ষার্থী ও বিরোধীরাও তাঁদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না।