ঢাকা ১১:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, দুই দিনেই প্রাণ গেল ১০ জনের Logo বেতন বাড়ল দ্বিগুণেরও বেশি: নবম পে-স্কেলে কোন গ্রেডে কত পাবেন, দেখুন পূর্ণ তালিকা Logo ধূমপান ও রান্নার ধোঁয়ায় নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস Logo ই-পেমেন্ট ক্রেডিটে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুবিধা Logo ভিসাবিহীন বাংলাদেশিদের দেশে ফেরার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন Logo সবুজবাগে কাতার প্রবাসী যুবক হত্যা, বান্ধবীর বাসায় কী ঘটেছিল Logo সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও থাকবে বাবা-মায়ের ভোগাধিকার Logo চন্দনাইশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ২য় বর্ষপূতি উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল এবং আলোচনা সভা Logo পুতিনের পর জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পের দুই দূত Logo জসীম উদ্দীন আহমেদ এমপি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য

বড় আপডেট: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে নতুন বিতর্ক

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের অপেক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ২০২৬ সালেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এরই মধ্যে নতুন করে বিকল্প জায়গা পরিদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালে জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে দেশের অষ্টম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ২০১৫ সালে কুড়িগ্রাম সফরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান, গবেষণা ও আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ এখনো সীমিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণে ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান পর্যালোচনা করা হয়। পরে সরেজমিন পরিদর্শনের পর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নালিয়ার দোলা এলাকায় প্রায় ২৫০ একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। জমির তফসিল, স্কেচ ম্যাপ ও মূল্য নির্ধারণের প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি অধিগ্রহণের আবেদন করে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।

স্থানীয়দের মতে, নালিয়ার দোলা এলাকায় নদীকেন্দ্রিক কৃষি, মৎস্য, চরাঞ্চলভিত্তিক গবেষণা এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাসজমি থাকায় অধিগ্রহণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম হওয়ার কথা। কুড়িগ্রামের পাশাপাশি গাইবান্ধাসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সম্প্রতি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুর নতুন দুটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের খবর সামনে আসার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি স্থানে এলজিইডির পার্ক এবং অন্য স্থানে বিপুল পরিমাণ তিন ফসলি জমি ও বহু বসতবাড়ি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ইউজিসির একটি প্রতিনিধিদল দাশেরহাট এলাকার সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন ২০২৩ সালেই জমি নির্ধারণ, প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তখন আবার নতুন করে জায়গা খোঁজার প্রয়োজন কেন? তাদের আশঙ্কা, নতুন করে স্থান নির্বাচন শুরু হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।

কুড়িগ্রামবাসীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, অনুমোদিত স্থানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, দুই দিনেই প্রাণ গেল ১০ জনের

বড় আপডেট: কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে নতুন বিতর্ক

Update Time : ০৪:৪২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাস নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৩ সালে প্রশাসনিক অনুমোদনের মাধ্যমে ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ২০২৬ সালেও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এরই মধ্যে নতুন করে বিকল্প জায়গা পরিদর্শনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

২০২১ সালে জাতীয় সংসদে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হওয়ার মাধ্যমে দেশের অষ্টম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ২০১৫ সালে কুড়িগ্রাম সফরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পরিচালিত হচ্ছে। স্থায়ী অবকাঠামো না থাকায় শিক্ষার্থীদের পাঠদান, গবেষণা ও আধুনিক শিক্ষা পরিবেশ এখনো সীমিত।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণে ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, ইউজিসি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে কয়েকটি সম্ভাব্য স্থান পর্যালোচনা করা হয়। পরে সরেজমিন পরিদর্শনের পর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার নালিয়ার দোলা এলাকায় প্রায় ২৫০ একর জমিতে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের সুপারিশ করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। জমির তফসিল, স্কেচ ম্যাপ ও মূল্য নির্ধারণের প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ভূমি অধিগ্রহণের আবেদন করে। ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন দেয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়।

স্থানীয়দের মতে, নালিয়ার দোলা এলাকায় নদীকেন্দ্রিক কৃষি, মৎস্য, চরাঞ্চলভিত্তিক গবেষণা এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে। পাশাপাশি এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ খাসজমি থাকায় অধিগ্রহণ ব্যয়ও তুলনামূলক কম হওয়ার কথা। কুড়িগ্রামের পাশাপাশি গাইবান্ধাসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরাও এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে সম্প্রতি ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলুর নতুন দুটি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনের খবর সামনে আসার পর নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। একটি স্থানে এলজিইডির পার্ক এবং অন্য স্থানে বিপুল পরিমাণ তিন ফসলি জমি ও বহু বসতবাড়ি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানা গেছে। একই সময়ে ইউজিসির একটি প্রতিনিধিদল দাশেরহাট এলাকার সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, যখন ২০২৩ সালেই জমি নির্ধারণ, প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তখন আবার নতুন করে জায়গা খোঁজার প্রয়োজন কেন? তাদের আশঙ্কা, নতুন করে স্থান নির্বাচন শুরু হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কয়েক বছর পিছিয়ে যেতে পারে।

কুড়িগ্রামবাসীর দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হোক। দীর্ঘদিন ধরে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারা মনে করেন, অনুমোদিত স্থানে দ্রুত অবকাঠামো নির্মাণ শুরু হলে বিশ্ববিদ্যালয়টি উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারবে।