চেলসি থেকে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দিয়েছেন আর্জেন্টাইন তরুণ স্ট্রাইকার আলেহান্দ্রো গার্নাচো। ২০২৬–২৭ মৌসুমের জন্য সম্পন্ন হওয়া এই চুক্তির মাধ্যমে নতুন করে নিজের ক্যারিয়ার গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) চেলসি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নির্দিষ্ট কিছু পারফরম্যান্স ও চুক্তিগত শর্ত পূরণ হলে আগামী গ্রীষ্মে এই ধারের চুক্তি স্থায়ী রূপ নেবে। সে ক্ষেত্রে অ্যাস্টন ভিলা গার্নাচোকে স্থায়ীভাবে দলে ভেড়াবে এবং চেলসি প্রায় ৫০ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) পাবে। তবে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তাবলি দুই ক্লাবের কেউই প্রকাশ করেনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্নাচো ইতোমধ্যেই অ্যাস্টন ভিলার সঙ্গে চার বছরের ব্যক্তিগত চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন। ধারের মেয়াদ সফলভাবে শেষ হলে সেই চুক্তিই কার্যকর হবে।
অ্যাস্টন ভিলা মনে করছে, গার্নাচোর গতি, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং আক্রমণভাগে একাধিক পজিশনে খেলার সামর্থ্য দলকে আরও শক্তিশালী করবে। বিশেষ করে উইং ও সেকেন্ড স্ট্রাইকার হিসেবে তার বহুমুখী ভূমিকা ভিলার আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে চেলসিতে যোগ দেওয়ার পর গার্নাচোর প্রথম মৌসুম প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৩ ম্যাচে তিনি মাত্র ৮টি গোল করেন এবং কয়েকটি অ্যাসিস্ট যোগ করেন।
মৌসুমজুড়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে না পারায় তিনি নিয়মিত একাদশে জায়গা হারান। নতুন কোচ জাবি আলোনসা দায়িত্ব নেওয়ার পর গার্নাচো তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নেই বলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপরই খেলোয়াড় ও ক্লাব উভয় পক্ষ ধারে অন্য ক্লাবে যাওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়।
অ্যাস্টন ভিলার স্প্যানিশ কোচ উনাই এমেরি দীর্ঘদিন ধরেই গার্নাচোকে দলে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশ ঘটানোর ক্ষেত্রে এমেরির সুনাম রয়েছে। তার বিশ্বাস, নিয়মিত খেলার সুযোগ পেলে গার্নাচো আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে পারবেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, প্রিমিয়ার লিগ এবং ঘরোয়া কাপ—সব মিলিয়ে ব্যস্ত মৌসুম সামনে রেখে ভিলা আক্রমণভাগে আরও গভীরতা আনতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
গার্নাচোর এই ধারের চুক্তির ঠিক আগে দুই ক্লাবের মধ্যে আরেকটি বড় দলবদল সম্পন্ন হয়। অ্যাস্টন ভিলা থেকে ইংলিশ মিডফিল্ডার মর্গান রজার্সকে রেকর্ড ১১৭ মিলিয়ন ইউরোতে দলে ভেড়ায় চেলসি।
ফলে গার্নাচোর ভিলায় যাওয়া এবং রজার্সের চেলসিতে যোগ দেওয়া—দুই ক্লাবের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
আর্জেন্টিনার বয়সভিত্তিক দল হয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া গার্নাচো ইউরোপের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ ফুটবলার হিসেবে পরিচিত। তার দ্রুতগতির দৌড়, এক-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে ওঠার দক্ষতা এবং গোল করার সামর্থ্য তাকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনে দিয়েছে।
অ্যাস্টন ভিলায় নিয়মিত সুযোগ পেলে তিনি আবারও নিজের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারবেন বলে আশা করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।




























