ঢাকা ০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আ স ম ফিরোজ: নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ Logo থাইল্যান্ডের এআইটি পরিদর্শনে মাভাবিপ্রবি উপাচার্য, গবেষণায় যৌথ কাজের পরিকল্পনা Logo সাহাদুল হকের মৃত্যু: চার বছর আগের হলফনামায় কী ছিল Logo কাঁঠালের দাম: মৌসুম শেষে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা Logo কানাডায় গায়কের গাড়ি লক্ষ্য করে সাত রাউন্ড গুলি! Logo বাল্যবিবাহের অপরাধে কেরানীগঞ্জে বরসহ ৩ জনের কারাদণ্ড Logo চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে ট্যাংক দুর্ঘটনায় ২ সেনা নিহত, আহত ১ Logo এমবাপ্পের রেকর্ডের রাতে ইন্টারকে হারাল রিয়াল Logo হালান্ডের জোড়া গোল, পোর্তোকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ম্যানসিটির দাপুটে জয় Logo আরব আমিরাতকে উড়িয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ, শেষ চারে ভারতের মুখোমুখি

সিয়া গোয়েল তার হবু বরকে মারতে চাননি

কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন তথ্য

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন কেতনকে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়াল ও সিয়া গোয়েলের বাগদান সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের নভেম্বরে জয়পুরে তাদের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। তবে শুরু থেকেই এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না সিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের কথা বিবেচনা করে সিয়া বিয়েতে আপত্তি জানাতে পারেননি। একই কারণে তিনি প্রেমিককে নিয়ে পালিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্তও নেননি। পরিবর্তে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য অন্য উপায় খুঁজতে শুরু করেন।

তদন্তকারীরা জানান, শুরুতে কেতনকে হত্যা নয়, বরং এমনভাবে আহত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে যায়। এতে তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাবেন বলে ভাবছিলেন।

কিন্তু পরে তাদের আশঙ্কা হয়, কেতন বেঁচে থাকলে পুরো ঘটনার পেছনের কারণ বুঝে যেতে পারেন এবং পুলিশি তদন্তে তাদের নাম উঠে আসতে পারে। সেই কারণেই পরিকল্পনা বদলে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

পুলিশের দাবি, হত্যার আগে সিয়া ও চেতন কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করেন। তারা এমন একটি স্থান খুঁজছিলেন, যেখানে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে পুনের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গকে বেছে নেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে তারা দুর্গ এলাকায় একাধিকবার গিয়েছিলেন এবং সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছিলেন। তদন্তকারীরা তাদের মোবাইল ফোনের লোকেশন, কল রেকর্ড, অনলাইন সার্চ হিস্ট্রি এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সুযোগ বুঝে তাকে উঁচু স্থান থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে মনে হলেও তদন্তে অসংগত তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি বাড়ায়।

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পরিকল্পনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, অথবা ঘটনার আগে ও পরে কেউ সহায়তা করেছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ এখনও চলমান।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে আদালতে বিস্তারিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আ স ম ফিরোজ: নতুন দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

সিয়া গোয়েল তার হবু বরকে মারতে চাননি

Update Time : ০৯:৩৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের মহারাষ্ট্রের পুনেতে ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশের দাবি, কেতনের বাগদত্তা সিয়া গোয়েল এবং তার প্রেমিক চেতন চৌধুরী পরিকল্পিতভাবে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে হত্যা করেন কেতনকে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাতে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে কেতন আগরওয়াল ও সিয়া গোয়েলের বাগদান সম্পন্ন হয়। চলতি বছরের নভেম্বরে জয়পুরে তাদের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ের আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। তবে শুরু থেকেই এই বিয়েতে রাজি ছিলেন না সিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেতন চৌধুরীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, পরিবারের সামাজিক মর্যাদা ও সম্মানের কথা বিবেচনা করে সিয়া বিয়েতে আপত্তি জানাতে পারেননি। একই কারণে তিনি প্রেমিককে নিয়ে পালিয়ে বিয়ের সিদ্ধান্তও নেননি। পরিবর্তে বিয়ে ভেঙে দেওয়ার জন্য অন্য উপায় খুঁজতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন  আনোয়ারায় ‘৫০% চাঁদা’ দাবির অভিযোগ, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীর ওপর হামলা

তদন্তকারীরা জানান, শুরুতে কেতনকে হত্যা নয়, বরং এমনভাবে আহত করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল যাতে বিয়ের অনুষ্ঠান পিছিয়ে যায়। এতে তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পাবেন বলে ভাবছিলেন।

কিন্তু পরে তাদের আশঙ্কা হয়, কেতন বেঁচে থাকলে পুরো ঘটনার পেছনের কারণ বুঝে যেতে পারেন এবং পুলিশি তদন্তে তাদের নাম উঠে আসতে পারে। সেই কারণেই পরিকল্পনা বদলে তাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তদন্তকারীদের ধারণা।

আরও পড়ুন  নেত্রকোনায় ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ, আটক ২

পুলিশের দাবি, হত্যার আগে সিয়া ও চেতন কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা করেন। তারা এমন একটি স্থান খুঁজছিলেন, যেখানে ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে মনে হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে পুনের ঐতিহাসিক লোহাগড় দুর্গকে বেছে নেওয়া হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে তারা দুর্গ এলাকায় একাধিকবার গিয়েছিলেন এবং সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছিলেন। তদন্তকারীরা তাদের মোবাইল ফোনের লোকেশন, কল রেকর্ড, অনলাইন সার্চ হিস্ট্রি এবং ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করছেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত দিনে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে কেতনকে লোহাগড় দুর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সুযোগ বুঝে তাকে উঁচু স্থান থেকে ধাক্কা দেওয়া হয়। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনা হিসেবে মনে হলেও তদন্তে অসংগত তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্তের পরিধি বাড়ায়।

আরও পড়ুন  আদাবরে ছিনতাইকারী ধরতে গিয়ে আহত পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশে প্রধানমন্ত্রী

পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদ, প্রযুক্তিগত তথ্য এবং অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণ করে পুলিশ সিয়া গোয়েল ও চেতন চৌধুরীকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার পরিকল্পনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, অথবা ঘটনার আগে ও পরে কেউ সহায়তা করেছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিজিটাল ফরেনসিক রিপোর্ট, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ এখনও চলমান।

তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে আদালতে বিস্তারিত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।