সৌদি পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ‘আব্রাহাম আকর্ডসে’ যোগ না দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি আর কার্যকর হবে না।
ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিতে পরিচালিত এই পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে পুরো চুক্তি বাস্তবায়নের আগে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হলে চুক্তি বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিটও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রস্তুত থাকলেও আব্রাহাম আকর্ডসে যোগ দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে দেখছে। ফলে সৌদি পরমাণু চুক্তি এখন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমীকরণের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে দুই দেশের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং মার্কিন প্রযুক্তিতে পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণ নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতার খবর প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার পর সেই সম্ভাবনা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কারণ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার অবস্থানে দীর্ঘদিন ধরে অনড় রয়েছে সৌদি আরব।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে ইসরায়েল। দেশটির সরকারের মতে, সৌদি আরব যদি আব্রাহাম আকর্ডসে যোগ দেয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হবে। একই সঙ্গে পারমাণবিক প্রযুক্তি নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও অনেকটাই কমে আসবে বলে তাদের বিশ্বাস।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি পরমাণু চুক্তি এখন শুধু জ্বালানি বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ কূটনীতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে রিয়াদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে।



























