অরিজিৎ সিং বার্তা আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর এবার পরিবেশ রক্ষা নিয়ে নিজের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন ভারতের জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী। রাজনীতি এড়িয়ে চললেও সামাজিক ও মানবিক ইস্যুতে তিনি যে নিজের মত প্রকাশ করতে দ্বিধা করেন না, সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন।
সম্প্রতি নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন অরিজিৎ। সেখানে তিনি জানান, একজন চিকিৎসকের সঙ্গে পরিবেশ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে হতাশ হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বড় গাছ কেটে তার বদলে নতুন চারাগাছ লাগানোকে যথেষ্ট সমাধান হিসেবে দেখানো হচ্ছিল, যা তিনি মোটেও গ্রহণযোগ্য মনে করেননি।
অরিজিৎ বলেন, বহু বছর ধরে বেড়ে ওঠা একটি পূর্ণবয়স্ক গাছের বিকল্প কখনোই নতুন লাগানো একটি চারাগাছ হতে পারে না। পুরোনো গাছ শুধু ছায়াই দেয় না, এটি কার্বন শোষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং অসংখ্য পাখি ও প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই উন্নয়নের নামে নির্বিচারে গাছ কাটা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি বলে মনে করেন তিনি।
নিজের পোস্টে তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে তা যেন প্রকৃতি ধ্বংসের বিনিময়ে না হয়। অরিজিতের মতে, পরিবেশ ধ্বংস করে গড়ে ওঠা উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবনকেই ঝুঁকির মুখে ফেলে। জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা, বায়ুদূষণ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও বন্যার মতো সমস্যার পেছনে পরিবেশের ক্ষতির বড় ভূমিকা রয়েছে।
ছাত্র আন্দোলনের সময় যেমন শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন, তেমনি এবারও পরিবেশ নিয়ে আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন তিনি। সমালোচনা বা ট্রলের তোয়াক্কা না করে নিজের বিশ্বাসের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছেন এই শিল্পী। তার মতে, সমাজের সচেতন নাগরিকদেরই প্রকৃতির হয়ে কথা বলতে হবে, কারণ গাছ কিংবা বন নিজেদের রক্ষা করার দাবি নিজেরা জানাতে পারে না।
অরিজিতের এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ তার পরিবেশ সচেতন অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, আবার কেউ ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তবে সব বিতর্কের মধ্যেও গায়কের বার্তা স্পষ্ট—স্বল্পমেয়াদি লাভের চেয়ে প্রকৃতি ও মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।



























