ঢাকা ০৯:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে নিয়ে চমকপ্রদ সব তথ্য Logo মহেশপুর সীমান্তে ১৪ ঘণ্টা পর ৬ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ Logo মুন্সীগঞ্জে বাস-নছিমনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ Logo হুথি হামলা: ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, ইরানকে সরাসরি দায়ী করবে যুক্তরাষ্ট্র Logo বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিকো গঞ্জালেসকে বরণ করে নিতে হাজারো মানুষের ঢল Logo রাজনৈতিক আশ্রয়ে মাদক-সন্ত্রাসের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না : পানিসম্পদমন্ত্রী Logo মেসির অবসরের বিষয়ে বোমা ফাটালেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস Logo ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে : জামায়াতের আমির Logo বিশ্বরেকর্ড! এক মিনিটে ৫২ স্টিল রিবার উৎপাদন করে গিনেসে একেএস Logo ক্যান্সারে আক্রান্ত শিক্ষিকা ইয়াসমিন আরার পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন

ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ী কে?

বিক্ষোভ চলাকালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ছুটছেন শিক্ষার্থীরা।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক দেশে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি জানান, বিষয়টি সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করবে কংগ্রেস।

রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শুধু সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে সন্তুষ্ট নয়; তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও ক্ষমা প্রত্যাশা করছে। তার মতে, সরকারের নীতিগত ভুলের কারণেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও শুধু একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করেছে। তার দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদর্শিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,

“যদি মোদিজি দোষী হন, তাহলে আরএসএসও সমানভাবে দায়ী। তারা উইপোকার মতো ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

তার মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

বক্তব্যের শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, তাদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা একসময় দেশের গর্ব ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সেই নীতির বিরুদ্ধেই একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা নীতি, ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ফি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দেখা যায়। কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগের জবাবে বিজেপি নেতারা বরাবরের মতো দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন আইন অনুযায়ী কাজ করেছে। তবে রাহুল গান্ধীর নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। কংগ্রেস বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে সরকার শিক্ষা সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

 রাহুল গান্ধীর বক্তব্যগুলো তার রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করেই পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা উচিত।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে নিয়ে চমকপ্রদ সব তথ্য

ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ী কে?

Update Time : ০৮:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার জন্য সরাসরি দায়ী করেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়।

এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক দেশে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, বরং শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। তিনি জানান, বিষয়টি সংসদে জোরালোভাবে উত্থাপন করবে কংগ্রেস।

রাহুল গান্ধী বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা শুধু সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে সন্তুষ্ট নয়; তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকেও ক্ষমা প্রত্যাশা করছে। তার মতে, সরকারের নীতিগত ভুলের কারণেই পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও শুধু একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত প্রভাব বিস্তার করেছে। তার দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদর্শিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,

“যদি মোদিজি দোষী হন, তাহলে আরএসএসও সমানভাবে দায়ী। তারা উইপোকার মতো ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”

তার মতে, শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাধীনতা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।

বক্তব্যের শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, তাদের আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা একসময় দেশের গর্ব ছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সেটিকে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সেই নীতির বিরুদ্ধেই একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষা নীতি, ভর্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ফি বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দেখা যায়। কিছু স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এসব বিক্ষোভ দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর এসব অভিযোগের জবাবে বিজেপি নেতারা বরাবরের মতো দাবি করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন আইন অনুযায়ী কাজ করেছে। তবে রাহুল গান্ধীর নির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশিত হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। কংগ্রেস বিষয়টি সংসদে উত্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে সরকার শিক্ষা সংস্কার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অবস্থানকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে ভারতের জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

 রাহুল গান্ধীর বক্তব্যগুলো তার রাজনৈতিক অভিযোগ ও মতামত। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান এবং স্বাধীন তদন্তের ফলাফল বিবেচনা করেই পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা উচিত।