সিলেটে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জুলাই আন্দোলন, গণভোটের ফল এবং সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও জনগণের মতামতের প্রতিফলন দেখতে চায়। তাই সরকারকে জনগণের প্রত্যাশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
তিনি দাবি করেন, ‘জুলাই সনদ‘ বাস্তবায়ন বর্তমান সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই সনদে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও আন্দোলনের চেতনা প্রতিফলিত হয়েছে। সরকার যদি তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে জনগণ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের দাবি আদায় করবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন কিংবা আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগকে কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে জনগণই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার সংকট তৈরি হয়েছে। তার দাবি, জনগণ আর কোনো ধরনের কর্তৃত্ববাদী বা এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা দেখতে চায় না। রাষ্ট্র পরিচালনায় আইনের শাসন, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফরকালে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে একই ধরনের প্রত্যাশা শুনেছেন। তার দাবি, জনগণ গণভোটে যে মতামত দিয়েছে, তার বাস্তব প্রতিফলন দেখতে চায়। তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া রায়ের যথাযথ বাস্তবায়নই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা রাজনৈতিক সংস্কার, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জাতীয় ঐক্য এবং অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ অপরিহার্য।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে উল্লেখিত দাবিগুলো তার এবং তার দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও মতামতকে প্রতিফলিত করে। এসব বিষয়ে সরকারের ভিন্ন অবস্থান বা প্রতিক্রিয়া থাকলে তা যুক্ত করলে সংবাদটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও পূর্ণাঙ্গ হবে।


























