হুথি হামলা নিয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ভবিষ্যতের যেকোনো হামলার দায় সরাসরি ইরানের ওপর বর্তাবে। তার এই মন্তব্যের পর নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অতীতে আন্তর্জাতিক নৌপথে হামলা এবং বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল। এরপর কিছু সময় তারা তুলনামূলক শান্ত থাকলেও সাম্প্রতিক হামলা সেই পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, সম্প্রতি লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও হুমকির মুখে ফেলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, হুথিরা মূলত ইরানের সমর্থনপুষ্ট একটি প্রক্সি গোষ্ঠী। তাই ভবিষ্যতে তারা যদি আবারও এমন হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কেবল হুথিদের নয়, সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না। তার ভাষায়, এটি হবে ‘চূড়ান্ত সতর্কবার্তা’।
এদিকে হুথিদের সর্বশেষ হামলার খবরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনেও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন ইরান এবং হুথি বিদ্রোহীদের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।


























