চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। সদর দপ্তর সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ আগামী রবিবার (২৬ জুলাই) ভোর থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
হরতালের আওতায় থাকবে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি সড়ক—
- খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক
- মিরসরাই-ফটিকছড়ি সড়ক
- হেয়াকো-চট্টগ্রাম সড়ক
এ কারণে এসব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার বাগান বাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে সদর দপ্তরের স্থান পরিবর্তনের দাবিতে স্লোগান দেন।
সমাবেশে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, বর্তমানে সদর দপ্তর পশ্চিম ভূজপুর মৌজায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পুরনো ফটিকছড়ি উপজেলা সদর দপ্তরের খুব কাছাকাছি। ফলে নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য পূরণ হবে না এবং উত্তরাঞ্চলের দূরবর্তী এলাকার মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে।
তাদের দাবি—
- দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সহজ যোগাযোগযোগ্য স্থানে সদর দপ্তর স্থাপন করতে হবে।
- সব ইউনিয়নের মানুষের জন্য সমানভাবে যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
- দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সরকার গত ৮ জুলাই ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা গঠনের গেজেট প্রকাশ করে। নতুন উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ইউনিয়নগুলো হলো—
- দাঁতমারা
- নারায়ণহাট
- বাগান বাজার
- ভূজপুর
- পাইন্দং
- সুয়াবিল (গেজেট অনুযায়ী)
তবে গেজেট প্রকাশের পর থেকেই সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। বিশেষ করে দাঁতমারা, বাগান বাজার ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, নির্ধারিত স্থানটি ভৌগোলিকভাবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সুবিধাজনক নয়।
স্থানীয়দের যুক্তি আন্দোলনকারীদের মতে—
- নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্য ছিল প্রশাসনিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
- সদর দপ্তর যদি পুরনো উপজেলার খুব কাছাকাছি থাকে, তাহলে দূরবর্তী এলাকার মানুষের যাতায়াত খরচ ও সময় কমবে না।
- পাহাড়ি ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের প্রশাসনিক সেবা পেতে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরতাল কর্মসূচি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো নতুন বক্তব্য দেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনদুর্ভোগের আশঙ্কা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের কারণে—
- দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
- পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
- অফিসগামী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে।
- জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হতে পারে।
এখন আন্দোলনকারীদের দাবির বিষয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।





























