ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই যুগে সৃজনশীল বিষয়ে পড়ে কি সত্যিই ‘ভাত নাই’?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৭

এআই কি সৃজনশীলতার শেষ? নাকি নতুন শুরুর গল্প?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—সৃজনশীল বিষয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়া কতটা সম্ভব? চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই কিংবা মিডজার্নির মতো প্রযুক্তি লেখালেখি, ছবি আঁকা ও কনটেন্ট তৈরিতে সক্ষম হওয়ায় চারুকলা, সংগীত ও নাট্যকলার মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব কমে যাবে কি না, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

বর্তমানে এআই বিভিন্ন ধরনের লেখা তৈরি করতে পারে, কয়েক সেকেন্ডে ছবি আঁকতে পারে এবং সুরও তৈরি করতে সক্ষম। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে সৃজনশীল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে চাকরি বা আয়ের সুযোগ কমে যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করেন শিক্ষাবিদ ও শিল্পীরা। তাঁদের মতে, এআই মূলত মানুষের তৈরি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন আউটপুট তৈরি করে। কিন্তু নতুন চিন্তা, আবেগ, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে যে শিল্পের জন্ম হয়, তা এখনো মানুষের একান্ত নিজস্ব শক্তি। এ কারণেই সৃজনশীলতার মূল্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

একজন শিল্পী যখন ক্যানভাসে ছবি আঁকেন, তখন সেখানে শুধু রং বা রেখা নয়, তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং দৃষ্টিভঙ্গিও ফুটে ওঠে। একটি কবিতা, গল্প বা গানও কেবল শব্দের সমষ্টি নয়; বরং মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও কল্পনার প্রকাশ। এই মানবিক দিকগুলো অনুকরণ করা এআইয়ের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

নাট্যকলার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। একজন অভিনেতা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেন, তখন তাঁর চোখের ভাষা, কণ্ঠের ওঠানামা এবং শরীরী অভিব্যক্তি দর্শকের সঙ্গে সরাসরি আবেগের সম্পর্ক তৈরি করে। এই জীবন্ত অভিজ্ঞতা কোনো সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদম সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ। একজন লেখক গবেষণায়, একজন ডিজাইনার ধারণা তৈরিতে কিংবা একজন শিল্পী প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুতে এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু চূড়ান্ত সৃজনশীল সিদ্ধান্ত, মৌলিকতা ও শিল্পমান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মানুষকেই নিতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। চারুকলা, চলচ্চিত্র, সংগীত, অ্যানিমেশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মতো বিষয়ে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু শিল্পচর্চাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাও অর্জন করতে পারছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মূল্য পাবে সেই মানুষ, যিনি সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারবেন। তাই এআইয়ের অগ্রগতিকে ভয় না পেয়ে, বরং এটিকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই হবে আগামী দিনের সফলতার চাবিকাঠি। সৃজনশীল শিক্ষার গুরুত্ব কমছে না; বরং প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এআই যুগে সৃজনশীল বিষয়ে পড়ে কি সত্যিই ‘ভাত নাই’?

Update Time : ০২:১৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠেছে—সৃজনশীল বিষয়ে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার গড়া কতটা সম্ভব? চ্যাটজিপিটি, জেমিনাই কিংবা মিডজার্নির মতো প্রযুক্তি লেখালেখি, ছবি আঁকা ও কনটেন্ট তৈরিতে সক্ষম হওয়ায় চারুকলা, সংগীত ও নাট্যকলার মতো বিষয়গুলোর গুরুত্ব কমে যাবে কি না, তা নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি যতই এগিয়ে যাক না কেন, মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি।

বর্তমানে এআই বিভিন্ন ধরনের লেখা তৈরি করতে পারে, কয়েক সেকেন্ডে ছবি আঁকতে পারে এবং সুরও তৈরি করতে সক্ষম। ফলে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে ভবিষ্যতে সৃজনশীল বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করলে চাকরি বা আয়ের সুযোগ কমে যাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে।

তবে বাস্তবতা ভিন্ন বলেই মনে করেন শিক্ষাবিদ ও শিল্পীরা। তাঁদের মতে, এআই মূলত মানুষের তৈরি বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে নতুন আউটপুট তৈরি করে। কিন্তু নতুন চিন্তা, আবেগ, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত অনুভূতি থেকে যে শিল্পের জন্ম হয়, তা এখনো মানুষের একান্ত নিজস্ব শক্তি। এ কারণেই সৃজনশীলতার মূল্য ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে।

একজন শিল্পী যখন ক্যানভাসে ছবি আঁকেন, তখন সেখানে শুধু রং বা রেখা নয়, তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতা, অনুভূতি এবং দৃষ্টিভঙ্গিও ফুটে ওঠে। একটি কবিতা, গল্প বা গানও কেবল শব্দের সমষ্টি নয়; বরং মানুষের আবেগ, স্মৃতি ও কল্পনার প্রকাশ। এই মানবিক দিকগুলো অনুকরণ করা এআইয়ের জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

নাট্যকলার ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। একজন অভিনেতা যখন মঞ্চে দাঁড়িয়ে অভিনয় করেন, তখন তাঁর চোখের ভাষা, কণ্ঠের ওঠানামা এবং শরীরী অভিব্যক্তি দর্শকের সঙ্গে সরাসরি আবেগের সম্পর্ক তৈরি করে। এই জীবন্ত অভিজ্ঞতা কোনো সফটওয়্যার বা অ্যালগরিদম সম্পূর্ণভাবে প্রতিস্থাপন করতে পারে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ। একজন লেখক গবেষণায়, একজন ডিজাইনার ধারণা তৈরিতে কিংবা একজন শিল্পী প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুতে এআইয়ের সহায়তা নিতে পারেন। কিন্তু চূড়ান্ত সৃজনশীল সিদ্ধান্ত, মৌলিকতা ও শিল্পমান নিশ্চিত করার দায়িত্ব মানুষকেই নিতে হবে।

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ও এখন প্রযুক্তি ও সৃজনশীল শিক্ষার সমন্বয়ের ওপর জোর দিচ্ছে। চারুকলা, চলচ্চিত্র, সংগীত, অ্যানিমেশন এবং ডিজিটাল মিডিয়ার মতো বিষয়ে এআই ব্যবহারের প্রশিক্ষণ যুক্ত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা শুধু শিল্পচর্চাই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতাও অর্জন করতে পারছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি মূল্য পাবে সেই মানুষ, যিনি সৃজনশীল চিন্তা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতাকে একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারবেন। তাই এআইয়ের অগ্রগতিকে ভয় না পেয়ে, বরং এটিকে দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগিয়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করাই হবে আগামী দিনের সফলতার চাবিকাঠি। সৃজনশীল শিক্ষার গুরুত্ব কমছে না; বরং প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এর নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।