বাংলাদেশে ২০২৬ সালের মোট চিত্র অনুযায়ী হামে মৃত্যু উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট হামে মৃত্যু প্রায় আটশ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশি। এই পরিসংখ্যান পুরো ২০২৬ সালের মোট হিসাব তুলে ধরে, এটি কোনো একদিন বা এক সপ্তাহের তথ্য নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, দ্রুত সংক্রমণ এবং কিছু এলাকায় সচেতনতার অভাবের কারণে হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। তাই শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা জরুরি।
২০২৬ সালের মোট হামের পরিস্থিতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মোট পরিসংখ্যানে বাংলাদেশে:
- হামে মৃত্যু: প্রায় আটশ
- আক্রান্ত: ১২ হাজারের বেশি
- দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে।
- শিশুদের পাশাপাশি টিকা না নেওয়া কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে দেখায় যে হামে মৃত্যু এখন দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়।

কেন বাড়ছে হামে মৃত্যু?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে কয়েকটি কারণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
- নির্ধারিত সময়ে এমএমআর টিকা না নেওয়া।
- কিছু এলাকায় টিকাদানের হার কমে যাওয়া।
- আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে দ্রুত সংক্রমণ।
- চিকিৎসা নিতে দেরি করা।
- অপুষ্টি ও দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।
এসব কারণে হামে মৃত্যু বাড়ার ঝুঁকি অনেক বেশি হয়ে যায়, বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে।

হামের লক্ষণ কী?
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ।
সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—
- উচ্চ জ্বর
- কাশি
- নাক দিয়ে পানি পড়া
- চোখ লাল হওয়া
- মুখের ভেতরে ছোট সাদা দাগ
- শরীরজুড়ে লালচে ফুসকুড়ি
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ অবহেলা করলে হামে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে—
- পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু
- অপুষ্টিতে ভোগা শিশু
- গর্ভবতী নারী
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি
- যারা হাম প্রতিরোধী টিকা নেননি

কীভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব?
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা।
এছাড়া—
- শিশুদের নির্ধারিত সময়ে এমএমআর টিকা দিতে হবে।
- আক্রান্ত ব্যক্তিকে আলাদা রাখতে হবে।
- নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
- পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে হবে।
- জ্বর ও ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা গেলে হামে মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলছেন, গুজবে কান না দিয়ে শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি জ্বর, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বাড়িতে বসে না থেকে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।


























