ঢাকা ১১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হলেন ফুটবলার মোঃ মোজাম্মেল হক Logo ভারতের পরীক্ষাব্যবস্থা সংস্কার Logo সাইবর্গ তেলাপোকা তৈরি, পানির নিচেও চলবে ৩ ঘণ্টা Logo নো-বেক পিনাট বাটার বার, ওভেন ছাড়াই ১৫ মিনিটে তৈরি সুস্বাদু ডেজার্ট Logo বাংলাদেশের টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য Logo ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগে প্রতিক্রিয়া, সোনাক্ষী সিনহার ভিডিও ভাইরাল Logo রেড লায়ন ভাস্কর্য মেরামতের দাবি, হারিয়েছে ঐতিহাসিক লেজ Logo মিশরের প্রাচীন খ্রিস্টান শহর আবিষ্কার, ১,৭০০ বছরের পুরোনো রহস্য উন্মোচন Logo জঙ্গল সলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির পানিতে বিষের অভিযোগ, চাঞ্চল্যকর তদন্ত শুরু Logo জয়া আহসানের ফিটনেস রহস্য: চমকপ্রদ ডায়েট ও লাইফস্টাইল জানুন

পথের পাঁচালী: নোলানকে স্তম্ভিত করা সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি

সত্যজিৎ রায়ের ‘পথের পাঁচালী’ দেখে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন ক্রিস্টোফার নোলান। ছবি: সংগৃহীত

পথের পাঁচালী শুধু বাংলা সিনেমার নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রেরও এক অনন্য সৃষ্টি। এবার এই কালজয়ী চলচ্চিত্রের প্রশংসায় মুখ খুললেন অস্কারজয়ী পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লজেট’ পরিদর্শনের সময় সত্যজিৎ রায়ের ‘অপু ট্রিলজি’ হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পথের পাঁচালী আমাকে সত্যিই স্তম্ভিত করেছিল।’ তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ছবিটি।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র সংগ্রহশালা ক্রাইটেরিয়ন ক্লজেট থেকে নিজের পছন্দের সিনেমা বেছে নিচ্ছেন নোলান। সেই সময় তার হাতে উঠে আসে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ‘অপু ট্রিলজি’। প্রথম ছবির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘পথের পাঁচালী অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র। এটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রিলজির বাকি দুটি সিনেমা ‘অপরাজিত’ ও ‘অপুর সংসার’ এখনো দেখা হয়নি এবং সেগুলো দেখার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

নোলানের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে ভাসেন সিনেমাপ্রেমীরা। অনেকেই লিখেছেন, একজন কিংবদন্তি আরেক কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিশ্বসিনেমার দুই মহীরুহের মধ্যে এটি এক অনন্য সম্মান প্রদর্শনের মুহূর্ত। তবে অনেক ভক্ত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, নোলান এখনো অপু ট্রিলজির শেষ দুটি চলচ্চিত্র দেখেননি।

১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। এরপর আসে অপরাজিত (১৯৫৬) এবং অপুর সংসার (১৯৫৯)। এই তিনটি চলচ্চিত্র মিলেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত অপু ট্রিলজি, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত। অপুর শৈশব, কৈশোর, সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং জীবনের নানা বাস্তবতাকে অসাধারণ সংবেদনশীলতায় তুলে ধরেছেন সত্যজিৎ রায়।

বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নির্মাতা ও চলচ্চিত্রবোদ্ধা সত্যজিৎ রায়ের কাজকে চলচ্চিত্র শিক্ষার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেন। বাস্তবধর্মী গল্প বলার ধরন, মানবিক আবেগের গভীরতা এবং অনবদ্য সিনেমাটোগ্রাফির কারণে পথের পাঁচালী আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মুগ্ধ করে। নোলানের মতো আধুনিক সময়ের অন্যতম সফল নির্মাতার প্রশংসা সেই গ্রহণযোগ্যতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে, ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘দি ওডিসি’ মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। তবে ব্যস্ততার মাঝেও তিনি যে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাকে সময় দিয়ে দেখছেন এবং প্রকাশ্যে প্রশংসা করছেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোলানের এই মন্তব্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও পথের পাঁচালী ও অপু ট্রিলজি দেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হলেন ফুটবলার মোঃ মোজাম্মেল হক

পথের পাঁচালী: নোলানকে স্তম্ভিত করা সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি

Update Time : ০৯:০৬:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পথের পাঁচালী শুধু বাংলা সিনেমার নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রেরও এক অনন্য সৃষ্টি। এবার এই কালজয়ী চলচ্চিত্রের প্রশংসায় মুখ খুললেন অস্কারজয়ী পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লজেট’ পরিদর্শনের সময় সত্যজিৎ রায়ের ‘অপু ট্রিলজি’ হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পথের পাঁচালী আমাকে সত্যিই স্তম্ভিত করেছিল।’ তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ছবিটি।

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র সংগ্রহশালা ক্রাইটেরিয়ন ক্লজেট থেকে নিজের পছন্দের সিনেমা বেছে নিচ্ছেন নোলান। সেই সময় তার হাতে উঠে আসে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ‘অপু ট্রিলজি’। প্রথম ছবির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘পথের পাঁচালী অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র। এটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রিলজির বাকি দুটি সিনেমা ‘অপরাজিত’ ও ‘অপুর সংসার’ এখনো দেখা হয়নি এবং সেগুলো দেখার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।

আরও পড়ুন  বালামের সংগীতযাত্রা উদযাপন, সুইডেনে বিশেষ কনসার্ট

নোলানের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে ভাসেন সিনেমাপ্রেমীরা। অনেকেই লিখেছেন, একজন কিংবদন্তি আরেক কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিশ্বসিনেমার দুই মহীরুহের মধ্যে এটি এক অনন্য সম্মান প্রদর্শনের মুহূর্ত। তবে অনেক ভক্ত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, নোলান এখনো অপু ট্রিলজির শেষ দুটি চলচ্চিত্র দেখেননি।

১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। এরপর আসে অপরাজিত (১৯৫৬) এবং অপুর সংসার (১৯৫৯)। এই তিনটি চলচ্চিত্র মিলেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত অপু ট্রিলজি, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত। অপুর শৈশব, কৈশোর, সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং জীবনের নানা বাস্তবতাকে অসাধারণ সংবেদনশীলতায় তুলে ধরেছেন সত্যজিৎ রায়।

আরও পড়ুন  জেনিফার লোপেজ সম্পর্ক: ৪ বিচ্ছেদের পর সাহসী উপলব্ধি

বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নির্মাতা ও চলচ্চিত্রবোদ্ধা সত্যজিৎ রায়ের কাজকে চলচ্চিত্র শিক্ষার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেন। বাস্তবধর্মী গল্প বলার ধরন, মানবিক আবেগের গভীরতা এবং অনবদ্য সিনেমাটোগ্রাফির কারণে পথের পাঁচালী আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মুগ্ধ করে। নোলানের মতো আধুনিক সময়ের অন্যতম সফল নির্মাতার প্রশংসা সেই গ্রহণযোগ্যতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে, ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘দি ওডিসি’ মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। তবে ব্যস্ততার মাঝেও তিনি যে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাকে সময় দিয়ে দেখছেন এবং প্রকাশ্যে প্রশংসা করছেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোলানের এই মন্তব্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও পথের পাঁচালী ও অপু ট্রিলজি দেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

আরও পড়ুন  দ্য ওডিসি সিনেমা: নোলানের মহাকাব্যিক বাজি, বাংলাদেশেও মুক্তি