পথের পাঁচালী শুধু বাংলা সিনেমার নয়, বিশ্ব চলচ্চিত্রেরও এক অনন্য সৃষ্টি। এবার এই কালজয়ী চলচ্চিত্রের প্রশংসায় মুখ খুললেন অস্কারজয়ী পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান। নিউইয়র্কের বিখ্যাত ‘ক্রাইটেরিয়ন ক্লজেট’ পরিদর্শনের সময় সত্যজিৎ রায়ের ‘অপু ট্রিলজি’ হাতে নিয়ে তিনি বলেন, ‘পথের পাঁচালী আমাকে সত্যিই স্তম্ভিত করেছিল।’ তার এই মন্তব্য প্রকাশের পর চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ছবিটি।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র সংগ্রহশালা ক্রাইটেরিয়ন ক্লজেট থেকে নিজের পছন্দের সিনেমা বেছে নিচ্ছেন নোলান। সেই সময় তার হাতে উঠে আসে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ‘অপু ট্রিলজি’। প্রথম ছবির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ‘পথের পাঁচালী অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র। এটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ট্রিলজির বাকি দুটি সিনেমা ‘অপরাজিত’ ও ‘অপুর সংসার’ এখনো দেখা হয়নি এবং সেগুলো দেখার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
নোলানের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই উচ্ছ্বাসে ভাসেন সিনেমাপ্রেমীরা। অনেকেই লিখেছেন, একজন কিংবদন্তি আরেক কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিশ্বসিনেমার দুই মহীরুহের মধ্যে এটি এক অনন্য সম্মান প্রদর্শনের মুহূর্ত। তবে অনেক ভক্ত বিস্ময় প্রকাশ করেছেন যে, নোলান এখনো অপু ট্রিলজির শেষ দুটি চলচ্চিত্র দেখেননি।
১৯৫৫ সালে মুক্তি পাওয়া পথের পাঁচালী বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত। এরপর আসে অপরাজিত (১৯৫৬) এবং অপুর সংসার (১৯৫৯)। এই তিনটি চলচ্চিত্র মিলেই গড়ে ওঠে বিখ্যাত অপু ট্রিলজি, যা বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসেবে স্বীকৃত। অপুর শৈশব, কৈশোর, সংগ্রাম, ভালোবাসা এবং জীবনের নানা বাস্তবতাকে অসাধারণ সংবেদনশীলতায় তুলে ধরেছেন সত্যজিৎ রায়।
বিশ্বজুড়ে অসংখ্য নির্মাতা ও চলচ্চিত্রবোদ্ধা সত্যজিৎ রায়ের কাজকে চলচ্চিত্র শিক্ষার অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে বিবেচনা করেন। বাস্তবধর্মী গল্প বলার ধরন, মানবিক আবেগের গভীরতা এবং অনবদ্য সিনেমাটোগ্রাফির কারণে পথের পাঁচালী আজও নতুন প্রজন্মের দর্শকদের মুগ্ধ করে। নোলানের মতো আধুনিক সময়ের অন্যতম সফল নির্মাতার প্রশংসা সেই গ্রহণযোগ্যতাকেই আরও শক্তিশালী করেছে।
অন্যদিকে, ক্রিস্টোফার নোলানের নতুন সিনেমা ‘দি ওডিসি’ মুক্তির পর বিশ্বব্যাপী আলোচনায় রয়েছে। তবে ব্যস্ততার মাঝেও তিনি যে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমাকে সময় দিয়ে দেখছেন এবং প্রকাশ্যে প্রশংসা করছেন, তা ভারতীয় উপমহাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নোলানের এই মন্তব্য নতুন প্রজন্মের দর্শকদেরও পথের পাঁচালী ও অপু ট্রিলজি দেখার আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে।



























