গ্যাস অনুসন্ধান রিগ সংগ্রহে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)-এর জন্য আরও দুটি আধুনিক রিগ কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও কূপ খননের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান জানান, দুটি আধুনিক অনুসন্ধান কূপ খনন রিগ কেনার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বাপেক্সের বহরে বিজয়-১০, বিজয়-১১, বিজয়-১২, বিজয়-১৮ এবং আইপিএস-১ নামে মোট পাঁচটি রিগ রয়েছে। নতুন দুটি যুক্ত হলে রিগের সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে পৌঁছাবে, যা ভবিষ্যতের অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২ হাজার হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি রিগ কেনার প্রস্তাব বর্তমানে মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫০০ হর্সপাওয়ারের আরেকটি রিগ সংগ্রহের জন্য বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। অনুমোদনের জন্য এটি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত ক্রয় কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে বাপেক্স নিয়মিত অনুসন্ধান, উন্নয়ন এবং ওয়ার্কওভার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) একটি মূল্যায়ন-সহ-উন্নয়ন কূপ এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে। এতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় বেগমগঞ্জ-৫ কূপ প্রায় ৩ হাজার ৫৫০ মিটার, বেগমগঞ্জ-৬ কূপ প্রায় ৩ হাজার ৪০০ মিটার এবং সুনেত্রা-২ কূপ প্রায় ৫ হাজার ৩০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে। অনুসন্ধানে গ্যাসের মজুত পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষণ শেষে উৎপাদনের জন্য কূপগুলো প্রস্তুত করা হবে। এতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর পথ আরও সহজ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাস অনুসন্ধান রিগ বাড়ানো শুধু নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের সম্ভাবনাই বাড়াবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারের এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


























