রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার প্রস্তাব উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে। প্রস্তাবিত বিলটি আইনে পরিণত হলে ভারত, চীনসহ রুশ জ্বালানির বড় ক্রেতা কয়েকটি দেশ সরাসরি এর প্রভাবের মুখে পড়তে পারে।
রয়টার্সের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনৈতিক সক্ষমতা দুর্বল করতে এবং দেশটির জ্বালানি আয় কমানোর লক্ষ্যেই এই বিল আনা হয়েছে। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রয়োজন অনুযায়ী রুশ তেল ও গ্যাস ক্রয় অব্যাহত রাখা দেশগুলোর ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে ভারত, চীন, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশকে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ছাড়মূল্যে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে ভারত। ফলে বিলটি কার্যকর হলে নয়াদিল্লির জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে বিলটি এখনও আইন হয়নি। মঙ্গলবার সিনেটে এর প্রক্রিয়াগত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের অনুমোদন পেলে তা প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য যাবে। আইন হলেও শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে না; কখন এবং কার ওপর তা প্রয়োগ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের হাতে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের জ্বালানি বাণিজ্য জটিল হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্য আলোচনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে পরিচিত বিলটিতে রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাও আরও কঠোর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, তবে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বেড়ে যেতে পারে।





























