জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত কলেজছাত্রী রিতা আক্তারের কবর জিয়ারত করেছেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট ইউনিয়নের তালখুর গ্রামে গিয়ে তিনি শহীদ রিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিমন্ত্রী রিতার কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং রিতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। পরে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কালাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম হোসেন মণ্ডল, যুগ্ম আহ্বায়ক মওদুদ আলম সরকার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলিম সরকারসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কবর জিয়ারত শেষে প্রতিমন্ত্রী শহীদ রিতা আক্তারের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি রিতার বাবা আশরাফ আলী, মা রেহেনা বিবি এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন। পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ জাতি কখনো ভুলবে না। তাদের অবদান দেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। রাষ্ট্র শহীদ পরিবারের পাশে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শোককে শক্তিতে পরিণত করে সবাইকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সরকার শহীদ পরিবারের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর সফরের সময় পুরো এলাকায় শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। গ্রামের অসংখ্য নারী-পুরুষ রিতার বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শহীদ রিতার স্মৃতিচারণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রিতা অত্যন্ত মেধাবী, শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিলেন। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তার অকাল মৃত্যু পুরো এলাকাকে শোকাহত করেছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রিতার বাবা আশরাফ আলী বলেন,
“আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। অনেক কষ্ট করে তাকে পড়ালেখা করাচ্ছিলাম। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই তাকে হারাতে হয়েছে। আমরা শুধু চাই, আমার মেয়ের আত্মত্যাগ যেন দেশ কখনো ভুলে না যায়।”
রিতার মা রেহেনা বিবিও মেয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মেয়ের স্মৃতি নিয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে, তবে রাষ্ট্র ও সমাজ যদি তাদের পাশে থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও সাহস পাওয়া যাবে।
স্থানীয়রা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। শহীদদের নামে শিক্ষা বৃত্তি, স্মৃতিস্তম্ভ কিংবা জনকল্যাণমূলক প্রকল্প গ্রহণের দাবি জানান তারা।
তাদের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদদের আত্মত্যাগের ইতিহাস তুলে ধরতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ আরও জোরদার করা উচিত।
গত বছরের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ও সহিংস ঘটনায় বহু মানুষ নিহত ও আহত হন। তাদের মধ্যে কলেজছাত্রী রিতা আক্তারও ছিলেন। তার মৃত্যু জয়পুরহাটসহ সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে তাকে জুলাই শহীদ হিসেবে সম্মান জানানো হয়।
শহীদ রিতার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর এই সফর স্থানীয়দের কাছে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মান ও সহমর্মিতার একটি প্রতীকী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, শহীদ পরিবারের জন্য ঘোষিত সহায়তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং তাদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে।

















