ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে অবৈধ গ্যাসের গুদামে প্রশাসনের হানাঃ খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম জব্দ Logo ঢাবি ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর: প্রকাশ হলো ভর্তি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি Logo প্রবাসী আয় কমার কারণ কী? Logo গলায় পারফিউম স্প্রে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত Logo বিওয়াইডি গাড়ি বিক্রিতে দারুণ উল্লম্ফন, জুলাইয়ে বেড়েছে ২২% Logo মৌসুমী ও ওমর সানীর বিয়ের গল্প Logo ঘোমটা পরে ওমর সানীর বাসায় হাজির মৌসুমী, জানুন সেই দিনের গল্প Logo এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল: ১২ কেজির নতুন দাম ১,৫৯৮ টাকা Logo জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য Logo বিটিএস গ্র্যামি বয়কট: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কী কারণ?

জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫১০

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জঙ্গি নাটক মামলা শুনানি। ছবি: সংগৃহীত

জঙ্গি নাটক মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৬ সালের গাজীপুরের জয়দেবপুরের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম দাবি করেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের পর মামলাটি আবারও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, সরকারের সমালোচনাকারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যক্তিদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো এবং পরে অভিযান দেখিয়ে তাঁদের হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগীদের একজন মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহীমের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী মন্তব্য করার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নেওয়া বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতেন। প্রসিকিউটরের দাবি, এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিতেন। ফলে কেবল মাঠপর্যায়ের সদস্য নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুনানিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়াও অনেক সময় দীর্ঘ হয়েছে। প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন, যদিও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয়ও মামলার আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষ এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১০ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মামলার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। ফলে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে অবৈধ গ্যাসের গুদামে প্রশাসনের হানাঃ খালি গ্যাস সিলিন্ডার ও সরঞ্জাম জব্দ

জঙ্গি নাটক মামলা শুনানিতে প্রসিকিউটরের বক্তব্য

Update Time : ১০:৪৬:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

জঙ্গি নাটক মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১৬ সালের গাজীপুরের জয়দেবপুরের বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ড। শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম দাবি করেন, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে পরিকল্পিতভাবে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যের পর মামলাটি আবারও জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১-এ মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলায় সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, সাবেক সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম ও সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদসহ মোট ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে উপস্থিত থাকলেও অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

আরও পড়ুন  ‘টাকা দিলে সার্ভার খোলা, না দিলে নেট সমস্যা’

শুনানিতে প্রসিকিউটর বলেন, সরকারের সমালোচনাকারীদের লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে জঙ্গি তকমা দেওয়া হতো। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যক্তিদের আটক করে একটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখা হতো এবং পরে অভিযান দেখিয়ে তাঁদের হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগীদের একজন মাদ্রাসাছাত্র মো. ইব্রাহীমের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী মন্তব্য করার কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন  পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে গাজীপুরে চরম উত্তেজনা ও সড়ক অবরোধ

প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে অংশ নেওয়া বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসারে কাজ করতেন। প্রসিকিউটরের দাবি, এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও নীতিগত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিতেন। ফলে কেবল মাঠপর্যায়ের সদস্য নয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী বিচার করার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে বিচারবহির্ভূত হত্যার পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুনানিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জঙ্গি-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়াও অনেক সময় দীর্ঘ হয়েছে। প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন, যদিও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। এসব বিষয়ও মামলার আলোচনায় উঠে আসে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষ এখনো তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রামে ওয়াসিম হত্যা মামলা: অভিযোগ গঠনের শুনানি ২২ জুন

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী ১০ আগস্ট নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল। সেদিন আসামিপক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে মামলার অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। ফলে প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।