ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ১৫ টাকার চাল কর্মসূচি: ৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে খাদ্য সহায়তা Logo বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া সিইপিএ, দর-কষাকষি শেষ, চুক্তি সই শিগগিরই Logo গাজা চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে মতবিরোধে নেতানিয়াহু Logo গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে: ছুটি বাড়াচ্ছে শিল্পকারখানা Logo পাট রপ্তানিতে বড় লক্ষ্য: ৫ বছরে দ্বিগুণ আয়ের পরিকল্পনা Logo এআই ডেটা সেন্টারে যুদ্ধের হুমকি: কেন সহজ টার্গেট হয়ে উঠছে? Logo স্বর্ণের দাম আবার ঊর্ধ্বমুখী, আজ কত টাকায় মিলছে এক ভরি? Logo ৯ আগস্ট চট্টগ্রামে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, থাকছে বড় কর্মসূচি Logo বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, রাত পর্যন্ত মুখোমুখি অবস্থান Logo সরকারি দপ্তরে এআই ব্যবহারে কেন সতর্ক করল সরকার?

গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে: ছুটি বাড়াচ্ছে শিল্পকারখানা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫২৫

গ্যাস সংকটের কারণে দেশের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস সংকট দেশের শিল্পখাতে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, কাচ, সিরামিক, ইস্পাত এবং ভোগ্যপণ্য শিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক কারখানা উৎপাদন ধরে রাখতে না পেরে সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর একটি পোশাক কারখানায় গ্যাস না থাকায় ডাইং বিভাগ টানা কয়েক দিন বন্ধ রয়েছে। ফলে সেলাই লাইনের বড় অংশ অলস হয়ে পড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হতে পারে, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বর্তমানে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। একই পরিস্থিতি স্পিনিং, ডাইং, প্লাস্টিক, বিস্কুট, বেকারি ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেও দেখা যাচ্ছে।

সংকটের মূল কারণ হিসেবে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে সরবরাহ প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুট, যেখানে দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।

গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জ্বালানিনির্ভর শিল্পে। কাচ ও সিরামিক শিল্পে চুল্লি সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস প্রয়োজন। উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একইভাবে ইস্পাত, বস্ত্র ও খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত শিল্পেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত সচল করা জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে বিকল্প জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও গ্যাস সংকট দেশের উৎপাদন, রপ্তানি এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

১৫ টাকার চাল কর্মসূচি: ৫৫ লাখ পরিবার পাচ্ছে খাদ্য সহায়তা

গ্যাস সংকটে উৎপাদন কমেছে: ছুটি বাড়াচ্ছে শিল্পকারখানা

Update Time : ১১:১২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

গ্যাস সংকট দেশের শিল্পখাতে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করেছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে তৈরি পোশাক, বস্ত্র, কাচ, সিরামিক, ইস্পাত এবং ভোগ্যপণ্য শিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অনেক কারখানা উৎপাদন ধরে রাখতে না পেরে সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

গাজীপুরের কোনাবাড়ীর একটি পোশাক কারখানায় গ্যাস না থাকায় ডাইং বিভাগ টানা কয়েক দিন বন্ধ রয়েছে। ফলে সেলাই লাইনের বড় অংশ অলস হয়ে পড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে বিদেশি ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হতে পারে, যা আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে।

আরও পড়ুন  টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাস সংকটের কারণে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। তৈরি পোশাক কারখানাগুলো বর্তমানে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে। একই পরিস্থিতি স্পিনিং, ডাইং, প্লাস্টিক, বিস্কুট, বেকারি ও ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানেও দেখা যাচ্ছে।

সংকটের মূল কারণ হিসেবে এলএনজি সরবরাহে বিঘ্নকে দায়ী করা হচ্ছে। গত ২১ জুলাই একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বর্তমানে সরবরাহ প্রায় ২১৫ কোটি ঘনফুট, যেখানে দেশের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ কিছুটা বাড়বে।

আরও পড়ুন  এআই কর্মীদের আয় বদলে দিচ্ছে সান ফ্রান্সিসকোর আবাসন বাজার

গ্যাসের ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে জ্বালানিনির্ভর শিল্পে। কাচ ও সিরামিক শিল্পে চুল্লি সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস প্রয়োজন। উদ্যোক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি শত শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। একইভাবে ইস্পাত, বস্ত্র ও খাদ্যপ্রক্রিয়াজাত শিল্পেও উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে এবং সরবরাহ কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  সাংস্কৃতিক আয়ে চমক, জাদুঘর-সার্কাস এগিয়ে, নাটক-থিয়েটার সবচেয়ে পিছিয়ে

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাময়িকভাবে এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত সচল করা জরুরি হলেও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং শিল্পখাতে বিকল্প জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও গ্যাস সংকট দেশের উৎপাদন, রপ্তানি এবং অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে।