ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘মার্চ টু ঢাকা’ কেন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছিল কর্মসূচি?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৯

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক দফা দাবি ঘোষণার প্রতীকী মুহূর্ত। ছবি: সংগৃহীত

মার্চ টু ঢাকা—২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত কর্মসূচিগুলোর একটি। প্রথমে ৬ আগস্ট এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তা একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে।

৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৬ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকারের জন্য দুই দিনের আল্টিমেটামও দেওয়া হয়।

তবে ৪ আগস্ট পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু হতাহতের খবর আসে। আন্দোলনের সমন্বয়কদের কাছে তখন আশঙ্কা তৈরি হয়, সময়ক্ষেপণ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে ৪ আগস্ট রাতেই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ জরুরি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন, মার্চ টু ঢাকা আর ৬ আগস্ট নয়, বরং পরদিন ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে দ্রুত ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানান। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

আসিফ মাহমুদের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ দাবি করেন, আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহ পৃথক বার্তায় ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং দেশজুড়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

পরে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছিল যে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে এবং সম্ভাব্য বাধার আগেই কর্মসূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যর্থ হলে পুরো দায়ভার তার ওপরই বর্তাত। তবুও তখনকার বাস্তবতায় অপেক্ষা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে হয়েছিল। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে এই সিদ্ধান্ত আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫ আগস্ট সারা দেশ থেকে হাজারো মানুষ রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করেন। দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তই আন্দোলনের গতি ও পরিণতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকে।

‘মার্চ টু ঢাকা’ কেন একদিন এগিয়ে আনা হয়েছিল কর্মসূচি?

Update Time : ০৮:৪৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

মার্চ টু ঢাকা—২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সবচেয়ে আলোচিত কর্মসূচিগুলোর একটি। প্রথমে ৬ আগস্ট এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে তা একদিন এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। এই সিদ্ধান্তই পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করে।

৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক বিশাল সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণা করেন। সমাবেশে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকারের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৬ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি পালন করা হবে। সরকারের জন্য দুই দিনের আল্টিমেটামও দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের চূড়ান্ত আইনি বিধান এবং ৫টি অজানা তথ্য

তবে ৪ আগস্ট পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা আন্দোলনকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। শিক্ষার্থীদের সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বহু হতাহতের খবর আসে। আন্দোলনের সমন্বয়কদের কাছে তখন আশঙ্কা তৈরি হয়, সময়ক্ষেপণ করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এমন প্রেক্ষাপটে ৪ আগস্ট রাতেই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ জরুরি ভিডিও বার্তায় ঘোষণা দেন, মার্চ টু ঢাকা আর ৬ আগস্ট নয়, বরং পরদিন ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে দ্রুত ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আহ্বান জানান। কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন  জুলাই গণঅভ্যুত্থান: হৃদয়ছোঁয়া সত্য, অদম্য সংগ্রাম ও অদৃশ্য ক্ষত

আসিফ মাহমুদের ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ দাবি করেন, আন্দোলনের সমন্বয়কদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই আরেক সমন্বয়ক সারজিস আলম এবং হাসনাত আবদুল্লাহ পৃথক বার্তায় ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি দূর হয় এবং দেশজুড়ে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

পরে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ জানান, বিভিন্ন সূত্র থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছিল যে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই আন্দোলনের গতি ধরে রাখতে এবং সম্ভাব্য বাধার আগেই কর্মসূচি এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন  পাবলিক পরীক্ষায় বড় সংস্কারের ভাবনা, আসতে পারে নতুন নিয়ম

তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যর্থ হলে পুরো দায়ভার তার ওপরই বর্তাত। তবুও তখনকার বাস্তবতায় অপেক্ষা না করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়াকেই সবচেয়ে কার্যকর মনে হয়েছিল। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে এই সিদ্ধান্ত আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।

৫ আগস্ট সারা দেশ থেকে হাজারো মানুষ রাজধানীর উদ্দেশে যাত্রা করেন। দিনভর উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় পরিবর্তন আসে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্তই আন্দোলনের গতি ও পরিণতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকে।