ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ Logo চন্দনাইশে গাছবাড়ীয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বাস উপহারের ঘোষণা এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদের Logo ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন পেল বিকাশ-রবিসহ চার প্রতিষ্ঠান Logo সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ, আদালতে দুই কর্মচারীর জবানবন্দি Logo মরিয়মের মৃত্যু মামলায় গাজী নজরুল ফের ৪ দিনের রিমান্ডে Logo থানার দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য Logo নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে উত্তেজনা, মামদানির হুমকির পর কী হতে পারে Logo গাজার পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি ডলারের পরিকল্পনা ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদের Logo শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন আর নেই, ছয় দশকের সাহিত্যজীবনের অবসান Logo ৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ

৫ আগস্টের সেই দুপুর, ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:৫৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৭১

টানা আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট আসে রাজনৈতিক পালাবদল। ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশত্যাগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সেদিন ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিল। এই সময় নির্বাচন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরলেও বিরোধীরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়া, দুর্নীতি এবং জবাবদিহির সংকটের অভিযোগ করে আসছিল।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংসতা, প্রাণহানি এবং সংঘর্ষের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

১৭ জুলাই রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার কারফিউ জারি করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একই সময়ে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করেন।

প্রথমদিকে আন্দোলনকারীরা ৯ দফা দাবি উত্থাপন করলেও পরে তা এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সরকারের পদত্যাগের দাবি ঘোষণা করা হয়। পরে ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। আন্দোলনের গতি ও জনসমর্থন ক্রমেই বাড়তে থাকে।

৫ আগস্ট দুপুরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। পরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ বিজয় মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেয়। এই ঘটনাকে অনেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচনা করেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং জনমতের প্রতিফলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে আলোচিত এবং ভবিষ্যতেও এই দিনকে ঘিরে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন উপজেলায় সাতকানিয়ার ৬ ইউনিয়নের সাথে দোহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে: এমপি জসীম উদ্দীন আহমেদ

৫ আগস্টের সেই দুপুর, ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা

Update Time : ০৮:৫৩:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

শেখ হাসিনার দেশত্যাগ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার টানা আন্দোলনের মুখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। দীর্ঘ আন্দোলনের পর সেদিন ক্ষমতার পালাবদল ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়।

২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার টানা প্রায় ১৬ বছর ক্ষমতায় ছিল। এই সময় নির্বাচন, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। সরকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরলেও বিরোধীরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হওয়া, দুর্নীতি এবং জবাবদিহির সংকটের অভিযোগ করে আসছিল।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগ ফেরাতে ষড়যন্ত্র চলছে বলে জামায়াতের অভিযোগ

২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে এই আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যুক্ত হন। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সহিংসতা, প্রাণহানি এবং সংঘর্ষের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ১৪ জুলাই এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার একটি মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরপর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়।

১৭ জুলাই রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকার কারফিউ জারি করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। একই সময়ে শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সাধারণ মানুষও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন  হজ ফ্লাইট কর কমানো: সুখবর, সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিমানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

প্রথমদিকে আন্দোলনকারীরা ৯ দফা দাবি উত্থাপন করলেও পরে তা এক দফা দাবিতে রূপ নেয়। ৩ আগস্ট রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সরকারের পদত্যাগের দাবি ঘোষণা করা হয়। পরে ৫ আগস্ট মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামে। আন্দোলনের গতি ও জনসমর্থন ক্রমেই বাড়তে থাকে।

৫ আগস্ট দুপুরে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। পরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ বিজয় মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেয়। এই ঘটনাকে অনেকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচনা করেন।

আরও পড়ুন  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও বড় কাঠামোগত রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন হয়নি

শেখ হাসিনার দেশত্যাগ শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ আন্দোলন, আত্মত্যাগ এবং জনমতের প্রতিফলন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ হিসেবে আলোচিত এবং ভবিষ্যতেও এই দিনকে ঘিরে নানা বিশ্লেষণ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।