ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী আজ প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কূটনৈতিক অঙ্গনে এই সাক্ষাৎকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা ও প্রত্যাশার মধ্যে এই বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
এর আগে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে দুই দেশের বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। পরে প্রধানমন্ত্রী ও ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ফলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় প্রতিনিধির বৈঠক হওয়ায় এর কূটনৈতিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বিষয় উঠে আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা সীমান্ত হত্যা, নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পুশ-ইনের মতো বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য, যোগাযোগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে ব্রিফ করবেন বলে জানা গেছে।
এই সাক্ষাতের রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ, সীমান্তে প্রাণহানি এবং পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আগ্রহ রয়েছে। তাই ভারতীয় হাইকমিশনারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎকে শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখছেন না অনেকে। বরং দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা আসতে পারে এই বৈঠক থেকে।
বিশেষ করে আগামী দিনে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক কোন পথে এগোবে, তা নিয়েও বৈঠকটি থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে। দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে কোনো নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দিল্লি সফর নিয়েও আলোচনা রয়েছে। আজকের বৈঠকে সেই সফরের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বার্তা বা সময়সূচির ইঙ্গিত পাওয়া যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্রিফিংয়ে আলোচনার বিষয়গুলো আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



























