ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ইরানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবেন ট্রাম্প, বড় ইঙ্গিত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৩

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদারের ইঙ্গিত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। | ছবি: সংগৃহীত

ইরানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত পিছু হটার ধারাবাহিকতায় এবার তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন অবস্থানকে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার তেহরানকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি ঝুলে থাকলেও এ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো অসন্তোষ দেখাননি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অচলাবস্থা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার বদলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে রাখার চেষ্টা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আংশিকভাবে আলোচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশটির ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকেও নজর রাখছেন। এর মাধ্যমে ইরানে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান আগে থেকেই দাবি করে আসছে, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কমতে থাকায় যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মার্কিন নাগরিকরা এখন কম অনুভব করছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি দাবার চালের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, কৌশলগতভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে। এখন প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সামরিক চাপের পথেই যাবে, নাকি ইরানে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্সা ছাড়তে চান তোরেস, পিএসজিতে যাওয়ার জোর গুঞ্জন

ইরানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াবেন ট্রাম্প, বড় ইঙ্গিত

Update Time : ০৯:২৩:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

ইরানে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক হামলার হুমকি দেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত পিছু হটার ধারাবাহিকতায় এবার তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এমন অবস্থানকে নতুন কৌশলের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে একাধিকবার তেহরানকে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহেও তিনি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি ঝুলে থাকলেও এ নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে কোনো অসন্তোষ দেখাননি বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে অচলাবস্থা এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের একটি অংশ এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ কমে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাব পড়ে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রেও রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সাধারণ মার্কিন ভোক্তাদের ওপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার বদলে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে রাখার চেষ্টা করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আংশিকভাবে আলোচনা করছে। একই সঙ্গে তিনি দেশটির ব্যাপক মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকেও নজর রাখছেন। এর মাধ্যমে ইরানে অর্থনৈতিক চাপ তৈরির কৌশলকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান আগে থেকেই দাবি করে আসছে, গত জুনে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্ত অনুযায়ী প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম তুলনামূলক কমতে থাকায় যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব মার্কিন নাগরিকরা এখন কম অনুভব করছেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি দাবার চালের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার ভাষায়, কৌশলগতভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ এবং শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতির একটি সমাধান বেরিয়ে আসবে। এখন প্রশ্ন হলো, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত সামরিক চাপের পথেই যাবে, নাকি ইরানে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করবে।