বাংলা কিউআর ব্যবহার করে পণ্য বা সেবার মূল্য পরিশোধে আন্তঃব্যাংক লেনদেনের চার্জ তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্তে গ্রাহক ও মার্চেন্টকে এ বাবদ কোনো অতিরিক্ত ফি দিতে হবে না। একই সঙ্গে ছোট ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বাংলা কিউআর ব্যবহারে উৎসাহ দিতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
সোমবার জারি করা দুটি পৃথক সার্কুলারে ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট সব পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে নতুন নিয়ম কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে পেমেন্টের ক্ষেত্রে কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বা অর্থ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ইন্টারচেঞ্জ রিইম্বার্সমেন্ট ফি নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
বাংলা কিউআর ব্যবহারে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বাড়াতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে নতুন প্রণোদনা চালু হবে। সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত যোগ্য লেনদেনে নির্ধারিত হারে এই সুবিধা দেওয়া হবে। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ আরও বাড়বে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যোগ্য লেনদেনে পেমেন্ট গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি হাজার টাকায় ১ টাকা এবং কার্ড প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রতি হাজার টাকায় ২ টাকা হারে প্রণোদনা পাবে। তবে একই লেনদেন ইচ্ছাকৃতভাবে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে সুবিধা নেওয়া যাবে না।
ব্যর্থ, বাতিল, ফেরত বা বিতর্কিত লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না। কোনো মার্চেন্টের লেনদেনে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে তা যাচাই করতে হবে। অপব্যবহার ঠেকাতে লেনদেনের তথ্য পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এর আগে বাংলা কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট পেমেন্টে নির্দিষ্ট হারে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট চালু করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে সংশ্লিষ্টদের মতামত ও বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় এবার আন্তঃব্যাংক ফি শূন্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টকে আরও সহজ ও কম খরচের করা। পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীদের নিরাপদ লেনদেনে উৎসাহিত করে দেশে আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো।




























