ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ডিম আগে, না মুরগি আগে? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা Logo দেশে রেকর্ড ৩৬৭১ মেগাওয়াট লোডশেডিং, চরম ভোগান্তিতে জনজীবন Logo জ্বালানি-বিদ্যুৎ বেসরকারীকরণ না করার দাবি Logo ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশি: সিলেটের ১১ জন, ফিরছেন দেশে Logo ফ্যাব্রিজিও রোমানো: ‘হেয়ার উই গো’ অধ্যায়ে আসছে বড় পরিবর্তন Logo এনজো ফার্নান্দেজ: চেলসির বড় দাম, সিটির সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ Logo গোল্ডেন এ প্লাস: অভাবকে জয় করে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন জাহিদের Logo চন্দনাইশ পৌরসভায় ৮নং ওয়ার্ডে দক্ষিণ গাছবাড়িয়া হরিনার পাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশীরভাগ খুঁটিতে জ্বলছে না সড়কবাতি, পৌরবাসীর দুর্ভোগ চরমে Logo রাতে মাথার পাশে ফোন? মোবাইলের রেডিয়েশনের ঝুঁকি জানুন Logo গরমে শরীর সতেজ রাখার কার্যকর উপায়

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশি: সিলেটের ১১ জন, ফিরছেন দেশে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৬

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশি সিলেটের ১১ জন। ছবি: সংগৃহীত

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার সময় দিক হারিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে মিসরের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে তাদের রাখা হয়েছে। মিসরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত ১০ জুলাই রাতে লিবিয়ার তবরুক এলাকা থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি ছোট রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন বাংলাদেশি ও মিসরীয় নাগরিকসহ ৪৭ জন। নৌকাটিতে প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সাগরের মাঝেই দিক হারিয়ে ফেলেন তারা। এরপর প্রায় দুই দিন তিন রাত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি ছাড়াই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে সাগরে ভাসতে থাকেন। দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে থাকার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মায়েরস্ক’ তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। পরবর্তীতে তাদের মিসরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের কর্মকর্তারা পোর্ট সাঈদে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচজন, হবিগঞ্জের পাঁচজন এবং সিলেট জেলার একজন রয়েছেন। অন্যদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর ও কিশোরগঞ্জে। জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা পৃথকভাবে লিবিয়ায় যান। এরপর মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। এ যাত্রার জন্য জনপ্রতি ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই জমিজমা বিক্রি করে এই অর্থ জোগাড় করেছিলেন।

এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মিসরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব বাংলাদেশির কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাদের জন্য ট্রাভেল পারমিট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পোর্ট সাঈদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার পর দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এসব বাংলাদেশি দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরতে চান।

তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। এই ঘটনায় আবারও অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রার ভয়াবহ ঝুঁকি সামনে এসেছে। বিপুল অর্থ খরচ করে দালালদের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা অনেক সময় জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন পদ্ধতি অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিম আগে, না মুরগি আগে? জানুন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশি: সিলেটের ১১ জন, ফিরছেন দেশে

Update Time : ০২:১৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার বাংলাদেশিদের মধ্যে ১১ জনই সিলেট বিভাগের বাসিন্দা। লিবিয়া থেকে অবৈধ পথে ইউরোপে যাওয়ার সময় দিক হারিয়ে সাগরে ভাসতে থাকা ১৫ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জের বাসিন্দার সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে মিসরের পোর্ট সাঈদ সিকিউরিটি সেন্টারে তাদের রাখা হয়েছে। মিসরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে দ্রুত তাদের বাংলাদেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

গত ১০ জুলাই রাতে লিবিয়ার তবরুক এলাকা থেকে গ্রিসের উদ্দেশে একটি ছোট রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন বাংলাদেশি ও মিসরীয় নাগরিকসহ ৪৭ জন। নৌকাটিতে প্রয়োজনীয় নেভিগেশন ব্যবস্থা ছিল না। একপর্যায়ে জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সাগরের মাঝেই দিক হারিয়ে ফেলেন তারা। এরপর প্রায় দুই দিন তিন রাত খাবার ও পর্যাপ্ত পানি ছাড়াই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে সাগরে ভাসতে থাকেন। দীর্ঘ সময় প্রতিকূল পরিবেশে থাকার কারণে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন  শনিবার যেসব এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জেনে নিন

পরে ডেনমার্কের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘মায়েরস্ক’ তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ৪৭ জনের মধ্যে ১৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক। পরবর্তীতে তাদের মিসরীয় নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছে কায়রোতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাসের কর্মকর্তারা পোর্ট সাঈদে গিয়ে উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের পাঁচজন, হবিগঞ্জের পাঁচজন এবং সিলেট জেলার একজন রয়েছেন। অন্যদের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর ও কিশোরগঞ্জে। জানা গেছে, ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তারা পৃথকভাবে লিবিয়ায় যান। এরপর মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নেন। এ যাত্রার জন্য জনপ্রতি ১০ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করেছেন বলে জানা গেছে। অনেকেই জমিজমা বিক্রি করে এই অর্থ জোগাড় করেছিলেন।

আরও পড়ুন  ডেঙ্গু আক্রান্ত: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৪৯ জন হাসপাতালে ভর্তি

এদিকে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, মিসরের আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যেসব বাংলাদেশির কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাদের জন্য ট্রাভেল পারমিট দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পোর্ট সাঈদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়েছে। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার পর দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা এসব বাংলাদেশি দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরতে চান।

আরও পড়ুন  বজ্রপাতে সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু

তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে এখনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। এই ঘটনায় আবারও অবৈধ পথে ইউরোপযাত্রার ভয়াবহ ঝুঁকি সামনে এসেছে। বিপুল অর্থ খরচ করে দালালদের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা অনেক সময় জীবনহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিদেশে যাওয়ার আগে বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসন পদ্ধতি অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।