ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

‘দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়?’ প্রশ্ন জাইমা রহমানের

জাইমা রহমান - ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়া, সড়ক নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। বাংলাদেশে নিজের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেছেন, অনলাইন প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও কেন দালালের মাধ্যমে কাজ করালে তা দ্রুত হয়।

জাইমা রহমান জানান, জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে ড্রাইভিং টেস্ট দিয়েছেন তিনি। এর আগে ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে প্রথম ড্রাইভিং টেস্ট দিয়েছিলেন এবং দুই ক্ষেত্রেই প্রথমবারে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে বাংলাদেশের ড্রাইভিং টেস্ট ও লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা তাকে শুধু ড্রাইভিং পরীক্ষা নিয়ে ভাবায়নি। বরং সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারি সেবার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, অনেক তরুণ বাংলাদেশির মধ্যে একটি মৌলিক হতাশা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকে সবসময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।

তিনি বলেন, পথচারীদের অনেক সময় পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই ব্যস্ত সড়ক পার হতে হয়। কোথাও ফুটপাত দখল হয়ে থাকে, কোথাও আবার তা হঠাৎ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড়ে প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন অলিখিত নিয়মের সঙ্গে চলতে হয়।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইমা বলেন, বাস কখন অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে, কখন হঠাৎ ব্রেক করবে, গাড়ির যান্ত্রিক ফিটনেস কেমন কিংবা চালক যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

‘দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়?’

নতুন চালক হিসেবে নিয়ম মেনে সবকিছু করতে গেলেও নানা প্রশ্ন সামনে আসে বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। তিনি প্রশ্ন করেন, নিয়মগুলো আসলে কী, কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয় এবং সঠিক পদ্ধতিটি কী?

তার আরও প্রশ্ন, অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সবসময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজ দ্রুত হয়ে যায়? ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস সেই কাগজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যা প্রমাণ করে একজন আবেদনকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন?

জাইমার মতে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে ডিজিটাল সেবা তখনই কার্যকর হয়, যখন সেটি সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবন সহজ করে।

তিনি বলেন, অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত ‘অফিসে এসে কথা বলুন’ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সমস্যাটির প্রকৃত সমাধান হয় না। তার মতে, প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত বা অনিয়মের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

‘ব্রোকারেরা ব্যবস্থার ফাটলের সুযোগ নেয়’

জাইমা রহমানের ভাষ্য, ব্রোকার বা দালালরা সরকারি সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। মানুষ সবসময় আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠলে একজন মধ্যস্থতাকারী অনেকের কাছে সহজ পথ হিসেবে দেখা দেয়।

তার মতে, এর ফলে দুর্নীতি ব্যতিক্রমী ঘটনা না থেকে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ভালো নিয়ম থাকলেও সেগুলো যদি বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যেতে পারে।

জাইমা প্রশ্ন তোলেন, নতুন চালকদের নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হলেও চোখের সামনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা ও বিভিন্ন ধরনের সড়ক আইন লঙ্ঘন চলতে থাকলে মানুষ সেই নিয়মের প্রতি কতটা আস্থা রাখবে?

অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেলে বাড়ে অনাস্থা

দুর্নীতির সমস্যা শুধু অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় নয়, অভিযোগ করার পর কী ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান।

তার মতে, কেউ যদি মনে করেন অভিযোগ করলে কোনো পরিবর্তন হবে না বরং নিজেরই বাড়তি ভোগান্তি হবে, তাহলে অনেকেই পরিচিত ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর পথ বেছে নিতে পারেন। এভাবেই অনিয়মের একটি চক্র তৈরি হয়।

সড়ক নিরাপত্তায় সবার অভিজ্ঞতা বিবেচনার আহ্বান

জাইমা রহমানের মতে, সড়ক নিরাপত্তা শুধু গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা শাস্তির বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রতিদিনের পথচারী, যাত্রী, চালক ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতাও যুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া শিক্ষার্থী, সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা নারী, কাজের তাড়ায় থাকা ফুড ডেলিভারি রাইডার, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বাসচালক, ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা জীবিকার জন্য রিকশা চালানো একজন মানুষের কাছে একই সড়কের অভিজ্ঞতা এক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, ভালো নীতিমালাকে এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। তা না হলে দরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীরা আরও বেশি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। এতে শোষণ ও ঘুষের সুযোগও বাড়তে পারে।

২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলনের প্রসঙ্গ

জাইমা রহমান ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন। ওই সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।

তার প্রশ্ন, আট বছর পরও যখন এসব উদ্বেগের অনেকটাই রয়ে গেছে, তখন সমস্যাগুলো সমাধান হচ্ছে না কেন?

জাইমা রহমান বলেন, প্রশ্নটি এখন শুধু ‘সড়ক নিরাপদ নয়’ এমন নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, সমস্যাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা সেগুলো সমাধান করতে পারেনি কেন।

সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করার প্রশ্ন

জাইমা রহমান মনে করেন, নাগরিকদের কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে, শুধু সেই প্রশ্ন করলেই হবে না। সংযোগ বা পরিচিতি থাকুক কিংবা না থাকুক, সবাই কীভাবে একই ধরনের সরকারি সেবা পাবেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, এমনভাবে সড়ক পরিকল্পনা ও নকশা করতে হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষের ছোট একটি ভুলের কারণে জীবনহানির মতো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।

জাইমা রহমানের ভাষ্য, সড়ক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবা ব্যবস্থায় প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে শুধু নিয়ম পরিবর্তন নয়, সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমানের ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

‘দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়?’ প্রশ্ন জাইমা রহমানের

Update Time : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রক্রিয়া, সড়ক নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। বাংলাদেশে নিজের দ্বিতীয় ড্রাইভিং টেস্ট দেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেছেন, অনলাইন প্রক্রিয়া থাকা সত্ত্বেও কেন দালালের মাধ্যমে কাজ করালে তা দ্রুত হয়।

জাইমা রহমান জানান, জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশে ড্রাইভিং টেস্ট দিয়েছেন তিনি। এর আগে ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে লন্ডনে প্রথম ড্রাইভিং টেস্ট দিয়েছিলেন এবং দুই ক্ষেত্রেই প্রথমবারে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে বাংলাদেশের ড্রাইভিং টেস্ট ও লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা তাকে শুধু ড্রাইভিং পরীক্ষা নিয়ে ভাবায়নি। বরং সড়ক ব্যবস্থাপনা, আইন প্রয়োগ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারি সেবার সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

জাইমা রহমান বলেন, অনেক তরুণ বাংলাদেশির মধ্যে একটি মৌলিক হতাশা রয়েছে। তাদের কাছ থেকে নিয়ম মেনে চলার প্রত্যাশা করা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাকে সবসময় নিরাপদ বা অনুমানযোগ্য মনে হয় না।

তিনি বলেন, পথচারীদের অনেক সময় পর্যাপ্ত ক্রসিং ছাড়াই ব্যস্ত সড়ক পার হতে হয়। কোথাও ফুটপাত দখল হয়ে থাকে, কোথাও আবার তা হঠাৎ শেষ হয়ে যায়। একই সঙ্গে বাস, মোটরসাইকেল, রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির ভিড়ে প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন অলিখিত নিয়মের সঙ্গে চলতে হয়।

যাত্রীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাইমা বলেন, বাস কখন অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দেবে, কখন হঠাৎ ব্রেক করবে, গাড়ির যান্ত্রিক ফিটনেস কেমন কিংবা চালক যথাযথ প্রশিক্ষণ ও বিশ্রাম পেয়েছেন কি না, এসব বিষয়ে যাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।

‘দালাল ধরলে কেন কাজটা দ্রুত হয়?’

নতুন চালক হিসেবে নিয়ম মেনে সবকিছু করতে গেলেও নানা প্রশ্ন সামনে আসে বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান। তিনি প্রশ্ন করেন, নিয়মগুলো আসলে কী, কেন সেগুলো একেকজনের জন্য একেক রকম মনে হয় এবং সঠিক পদ্ধতিটি কী?

আরও পড়ুন  ধর্ষণচেষ্টা: চকলেটের প্রলোভনে শিশুকে জঙ্গলে নেওয়ার অভিযোগ

তার আরও প্রশ্ন, অনলাইন প্রক্রিয়া কেন সবসময় যথেষ্ট নয়? দালাল ধরলে কেন কাজ দ্রুত হয়ে যায়? ড্রাইভিং পরীক্ষায় পাস করার পরও কেন মাসের পর মাস সেই কাগজের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, যা প্রমাণ করে একজন আবেদনকারী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন?

জাইমার মতে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনেক সেবা ডিজিটাল করেছে, যা গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে ডিজিটাল সেবা তখনই কার্যকর হয়, যখন সেটি সত্যিকার অর্থে মানুষের জীবন সহজ করে।

তিনি বলেন, অনলাইনে শুরু হওয়া কোনো সমস্যার সমাধান যদি শেষ পর্যন্ত ‘অফিসে এসে কথা বলুন’ পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সমস্যাটির প্রকৃত সমাধান হয় না। তার মতে, প্রতিটি অপ্রয়োজনীয় সরাসরি যোগাযোগ দেরি, পক্ষপাত বা অনিয়মের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

‘ব্রোকারেরা ব্যবস্থার ফাটলের সুযোগ নেয়’

জাইমা রহমানের ভাষ্য, ব্রোকার বা দালালরা সরকারি সেবা ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নেয়। মানুষ সবসময় আইন ভাঙতে চায় বলে নয়, বরং সরকারি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠলে একজন মধ্যস্থতাকারী অনেকের কাছে সহজ পথ হিসেবে দেখা দেয়।

তার মতে, এর ফলে দুর্নীতি ব্যতিক্রমী ঘটনা না থেকে কাজ আদায়ের স্বাভাবিক পদ্ধতিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। লাইসেন্স, গাড়ির ফিটনেস, চালকের প্রশিক্ষণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে ভালো নিয়ম থাকলেও সেগুলো যদি বেছে বেছে প্রয়োগ করা হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারী আখ্যা দিয়ে তরুণকে খুঁটিতে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা

জাইমা প্রশ্ন তোলেন, নতুন চালকদের নিয়ম মেনে চলার কথা বলা হলেও চোখের সামনে ফিটনেসবিহীন গাড়ি, বেপরোয়া চালনা ও বিভিন্ন ধরনের সড়ক আইন লঙ্ঘন চলতে থাকলে মানুষ সেই নিয়মের প্রতি কতটা আস্থা রাখবে?

অভিযোগ করেও প্রতিকার না পেলে বাড়ে অনাস্থা

দুর্নীতির সমস্যা শুধু অনিয়ম সংঘটিত হওয়ায় নয়, অভিযোগ করার পর কী ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন জাইমা রহমান।

তার মতে, কেউ যদি মনে করেন অভিযোগ করলে কোনো পরিবর্তন হবে না বরং নিজেরই বাড়তি ভোগান্তি হবে, তাহলে অনেকেই পরিচিত ব্যক্তি বা দালালের মাধ্যমে কাজ করানোর পথ বেছে নিতে পারেন। এভাবেই অনিয়মের একটি চক্র তৈরি হয়।

সড়ক নিরাপত্তায় সবার অভিজ্ঞতা বিবেচনার আহ্বান

জাইমা রহমানের মতে, সড়ক নিরাপত্তা শুধু গাড়ি, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা শাস্তির বিষয় নয়। এর সঙ্গে প্রতিদিনের পথচারী, যাত্রী, চালক ও অন্যান্য সড়ক ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতাও যুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে হেঁটে যাওয়া শিক্ষার্থী, সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা নারী, কাজের তাড়ায় থাকা ফুড ডেলিভারি রাইডার, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বাসচালক, ব্যস্ত সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা জীবিকার জন্য রিকশা চালানো একজন মানুষের কাছে একই সড়কের অভিজ্ঞতা এক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তার মতে, ভালো নীতিমালাকে এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিতে হবে। তা না হলে দরিদ্র বা ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ব্যবহারকারীরা আরও বেশি অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। এতে শোষণ ও ঘুষের সুযোগও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, বাংলাদেশে ভরি কত?

২০১৮ সালের সড়ক আন্দোলনের প্রসঙ্গ

জাইমা রহমান ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন। ওই সময় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে লাইসেন্স পরীক্ষা, যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল।

তার প্রশ্ন, আট বছর পরও যখন এসব উদ্বেগের অনেকটাই রয়ে গেছে, তখন সমস্যাগুলো সমাধান হচ্ছে না কেন?

জাইমা রহমান বলেন, প্রশ্নটি এখন শুধু ‘সড়ক নিরাপদ নয়’ এমন নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, সমস্যাগুলো আগে থেকেই চিহ্নিত হওয়ার পরও ব্যবস্থা সেগুলো সমাধান করতে পারেনি কেন।

সবার জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করার প্রশ্ন

জাইমা রহমান মনে করেন, নাগরিকদের কীভাবে নিয়ম মানানো যাবে, শুধু সেই প্রশ্ন করলেই হবে না। সংযোগ বা পরিচিতি থাকুক কিংবা না থাকুক, সবাই কীভাবে একই ধরনের সরকারি সেবা পাবেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকে ন্যায্য ও সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তার মতে, এমনভাবে সড়ক পরিকল্পনা ও নকশা করতে হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষের ছোট একটি ভুলের কারণে জীবনহানির মতো বড় দুর্ঘটনা না ঘটে।

জাইমা রহমানের ভাষ্য, সড়ক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবা ব্যবস্থায় প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে শুধু নিয়ম পরিবর্তন নয়, সমস্যাকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।