ইরান যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যে ওমানকে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৭ আগস্ট) ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইয়ংস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে চুক্তির পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
ট্রাম্পের হুমকির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন করা হয়। ইরান ও ওমান প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ও নৌযান চলাচল নিয়ে আলোচনা করছে। একই সময়ে ওয়াশিংটনও প্রণালিটি পুনরায় সচল করা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য আলাদা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ওমানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ওমান যদি ইরানের সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টার পথে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তাঁর বক্তব্যের ভাষা ছিল অত্যন্ত আক্রমণাত্মক।
হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ। এর এক পাশে ইরান এবং অপর পাশে ওমানের ভূখণ্ড রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সেখানে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ এবং দাম—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও ওমান প্রণালির নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ইরান ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করার কাছাকাছি রয়েছে, যার লক্ষ্য হলো প্রণালির মধ্য দিয়ে জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করা। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিভিন্ন দিকের নৌযানের জন্য আলাদা চলাচলপথ রাখার বিষয়ও রয়েছে।
ট্রাম্প বেশ কিছুদিন ধরেই ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার কথা বলে আসছেন। এর আগে তিনি কূটনৈতিক আলোচনায় দ্রুত অগ্রগতি না হলে আবার বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। বরং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নৌযান চলাচল এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়গুলো আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। সোমবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৮.৮৬ ডলারে উঠেছে।
ওমান ঐতিহাসিকভাবে ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। ফলে দেশটির বিরুদ্ধে ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর আগে মে মাসেও ট্রাম্প ওমানকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে দেশটির অবস্থানের বিষয়ে হুমকি দিয়েছিলেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, কারণ একদিকে ইরান ও ওমান হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র একই অঞ্চলে নিজেদের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় চাপ বাড়াচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বাজারও পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আরও অস্থির হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


























