ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিতে সেতু বিভাগের সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেছে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেডের (সিআরসিসি) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রকল্পের নির্মাণকাজ ত্বরান্বিত করা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সিআরসিসির চেয়ারম্যান উ ইয়ানকুন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন। বৈঠকে প্রকল্পের অগ্রগতি, নির্মাণকাজের গতি বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল, যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটি সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের হাত ধরে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দিকনির্দেশনা, সরকারের দৃঢ় সংকল্প, দ্বিতীয় আরডিপিপি অনুমোদন এবং প্রকল্পের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির ফলে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অনেক। ঢাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও আবাসিক এলাকার সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত করার পাশাপাশি দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেতু সচিবের মতে, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের উন্নয়ন ঘটবে। বিশেষ করে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর যোগাযোগ আরও নিরবচ্ছিন্ন ও গতিশীল হবে।
বর্তমানে ঢাকা থেকে সাভার, আশুলিয়া ও দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিকে চলাচলের ক্ষেত্রে যানজট একটি বড় সমস্যা। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে বিদ্যমান সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমানো এবং দ্রুত চলাচলের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাজধানীর সঙ্গে সাভার, আশুলিয়া এবং ঢাকা-ইপিজেড এলাকার সংযোগ ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আসবে। এসব এলাকার শিল্পকারখানা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ সহজ হলে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত আরও কার্যকর হতে পারে।
সাভার ও আশুলিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম রয়েছে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ শিল্প খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে শিল্পাঞ্চল থেকে রাজধানীতে পণ্য পরিবহন এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতেও সুবিধা তৈরি হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এর সুদূরপ্রসারী ভূমিকা থাকবে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বৈঠকে সিআরসিসির চেয়ারম্যান উ ইয়ানকুন বাংলাদেশ সরকার, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান।
তিনি প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান। আন্তর্জাতিক মানের প্রকৌশল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে জনবল, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রীর সরবরাহ বাড়ানোর কথাও জানান সিআরসিসির চেয়ারম্যান। এর মাধ্যমে নির্মাণকাজের গতি আরও বাড়ানো এবং প্রকল্পটি সময়মতো সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে।
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে রাজধানী ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া, ঢাকা-ইপিজেড এবং উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানজট কমানো, যাতায়াতের সময় কমানো এবং পণ্য পরিবহনে গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বৈঠকে প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় এখন নির্মাণকাজে জনবল, যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে।





























