ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যারাডোনার কিডনি নিয়ে চিকিৎসকদের বড় ভুল, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

চিকিৎসকদের অবহেলা

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলা অবহেলার মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এক কিডনি বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার কিডনি বিকল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো তাঁর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা সময়মতো শনাক্ত ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেননি।

বুয়েনস এইরেসের একটি আদালতে মামলার শুনানিতে নেফ্রোলজিস্ট এরনান ত্রিমারকি জানান, ম্যারাডোনা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্তের অস্ত্রোপচার থেকে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি।

বিশেষজ্ঞের মতে, অতিরিক্ত ওজন, কোকেন আসক্তি এবং দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপের কারণে ম্যারাডোনার কিডনিতে ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এর ফলে তাঁর কিডনি অস্বাভাবিকভাবে ভারী হয়ে যায়। এমন অবস্থায় নিয়মিত পরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ছিল বলে আদালতকে জানান তিনি।

ত্রিমারকি বলেন, ম্যারাডোনার প্রতিদিন চিকিৎসা পরীক্ষা, নার্সিং কেয়ার, রক্ত পরীক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল। কিন্তু মৃত্যুর আগের প্রায় দুই সপ্তাহের সুস্থতার সময় তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল, এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

ম্যারাডোনার শরীর হঠাৎ ফুলে যাওয়া এবং রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়াও চিকিৎসকদের জন্য বড় সতর্কসংকেত ছিল বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। গত এপ্রিলে আদালতে দেখানো কিছু ছবিতে মৃত্যুর আগে তাঁর পেটে অতিরিক্ত তরল জমে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার চিত্রও উঠে আসে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম যন্ত্রণায় ছিলেন ম্যারাডোনা। বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে না রেখে একটি সাধারণ বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল কি না, সেটিও এখন আদালতের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসার ধরন ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নার্সসহ মোট সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার বিচার কার্যক্রম অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যারাডোনার কিডনি নিয়ে চিকিৎসকদের বড় ভুল, আদালতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Update Time : ০৮:২৭:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলা অবহেলার মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে এক কিডনি বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, ম্যারাডোনার কিডনি বিকল হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলো তাঁর দায়িত্বে থাকা চিকিৎসকেরা সময়মতো শনাক্ত ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেননি।

বুয়েনস এইরেসের একটি আদালতে মামলার শুনানিতে নেফ্রোলজিস্ট এরনান ত্রিমারকি জানান, ম্যারাডোনা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগে ভুগছিলেন। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ৬০ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগে মস্তিষ্কে জমাট বাঁধা রক্তের অস্ত্রোপচার থেকে সুস্থ হয়ে উঠছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন  খেলা শেষে স্টেডিয়াম পরিষ্কার করে আবারও বিশ্বকে মুগ্ধ করল জাপান

বিশেষজ্ঞের মতে, অতিরিক্ত ওজন, কোকেন আসক্তি এবং দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপের কারণে ম্যারাডোনার কিডনিতে ক্ষত তৈরি হয়েছিল। এর ফলে তাঁর কিডনি অস্বাভাবিকভাবে ভারী হয়ে যায়। এমন অবস্থায় নিয়মিত পরীক্ষা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন ছিল বলে আদালতকে জানান তিনি।

ত্রিমারকি বলেন, ম্যারাডোনার প্রতিদিন চিকিৎসা পরীক্ষা, নার্সিং কেয়ার, রক্ত পরীক্ষা এবং শারীরিক অবস্থার নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল। কিন্তু মৃত্যুর আগের প্রায় দুই সপ্তাহের সুস্থতার সময় তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল, এমন কোনো নথি পাওয়া যায়নি বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ।

আরও পড়ুন  স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালে, ফ্রান্সকে হারিয়ে ১৬ বছর পর নতুন ইতিহাস

ম্যারাডোনার শরীর হঠাৎ ফুলে যাওয়া এবং রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়াও চিকিৎসকদের জন্য বড় সতর্কসংকেত ছিল বলে আদালতে উল্লেখ করা হয়। গত এপ্রিলে আদালতে দেখানো কিছু ছবিতে মৃত্যুর আগে তাঁর পেটে অতিরিক্ত তরল জমে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার চিত্রও উঠে আসে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে চরম যন্ত্রণায় ছিলেন ম্যারাডোনা। বুয়েনস এইরেসের তিগ্রে এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এবং ফুসফুসে অতিরিক্ত তরল জমার কারণে তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন  ফিফা বিশ্বকাপ বিনামূল্যে দেখার সুযোগ, তবে সবার জন্য নয়

ম্যারাডোনাকে হাসপাতালে না রেখে একটি সাধারণ বাড়িতে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর জীবনকে আরও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছিল কি না, সেটিও এখন আদালতের তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিকিৎসার ধরন ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও নার্সসহ মোট সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। মামলার বিচার কার্যক্রম অন্তত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।