ঢাকা ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ হকি দল: এশিয়াডের আগে চীনে বড় প্রস্তুতি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

এশিয়ান গেমসের আগে চীনে প্রস্তুতি নেবে বাংলাদেশ হকি দল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ হকি দল এশিয়ান গেমসের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবে চীনে। জার্মানি, চীন ও মিসরের মধ্যে কোথায় হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প—কয়েক দিন ধরে এই প্রশ্নই ছিল বাংলাদেশের হকি অঙ্গনে। শেষ পর্যন্ত জার্মানির পরিকল্পনা ভিসা জটিলতায় আটকে যাওয়ায় চীনকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। শুধু পুরুষ দল নয়, নারী দলও একই দেশে গিয়ে প্রস্তুতি নেবে।

বাংলাদেশ হকি দলের জন্য চীন সফরটি হবে প্রায় দুই সপ্তাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি পর্ব। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে নামার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যে কোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে চীনে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাটি বাংলাদেশের দুই দলের জন্যই বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ অনুশীলনের পাশাপাশি ম্যাচের আবহে নিজেদের ভুল-ত্রুটি যাচাই করার সুযোগ পাবেন খেলোয়াড়েরা।

পুরুষ দলের চীন যাত্রার সম্ভাব্য তারিখ ২ সেপ্টেম্বর। নারী দল অবশ্য আরও আগে, ৩০ আগস্ট দেশ ছাড়বে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, দুই দলেরই চীন সফরের ভিসা হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে পরিকল্পনা অনুযায়ীই দুই দল চীনের উদ্দেশে রওনা হবে। প্রস্তুতির জায়গা নিশ্চিত হওয়ায় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফেরাও এখন ম্যাচ পরিকল্পনায় আরও মনোযোগ দিতে পারবেন।

চীনে পুরুষ দলের প্রস্তুতি হবে বেশ ব্যস্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের জাতীয় হকি দলের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে বেইজিংয়ের একটি স্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। অর্থাৎ সবকিছু পরিকল্পনামতো হলে পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের পুরুষ হকি খেলোয়াড়েরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসের আগে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

নারী দলের প্রস্তুতিও থাকছে প্রায় একই রকম ব্যস্ততায়। তাদের জন্য চার থেকে পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নারী দলও শুধু অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে। বিশেষ করে আক্রমণ, রক্ষণ, পেনাল্টি কর্নার এবং ম্যাচের চাপ সামলানোর জায়গাগুলোতে এই ম্যাচগুলো কাজে লাগতে পারে। বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন প্রস্তুতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশ হকি দলকে ঘিরে চীন সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের হিসাব। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসবে ২০তম এশিয়ান গেমস। অর্থাৎ চীনে ক্যাম্প শেষ করে খুব বেশি সময় হাতে থাকবে না। তাই সেখানে শুধু অনুশীলন নয়, প্রতিটি প্রস্তুতি ম্যাচকে এশিয়াডের মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখতে হবে। কোচিং স্টাফদের জন্যও এটি হবে চূড়ান্ত একাদশ ও কৌশল ঠিক করার গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এর আগে জার্মানিতে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মিসরও ছিল সম্ভাব্য বিকল্প। শেষ পর্যন্ত চীনকে বেছে নেওয়ায় এখন সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। প্রস্তুতির ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ায় দুই দলের খেলোয়াড়দের সামনে লক্ষ্যও পরিষ্কার—চীনে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়া এবং সেখানকার ম্যাচগুলো থেকে এশিয়ান গেমসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া।

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী—দুই হকি দলই অংশ নেবে। তাই চীনের এই ক্যাম্পকে শুধু সাধারণ বিদেশ সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এশিয়ার অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরের আগে নিজেদের অবস্থান যাচাই করার এটি হবে বড় সুযোগ। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে এবং কোথায় আরও কাজ করতে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে এই সফরেই।

সব মিলিয়ে জার্মানি বা মিসরের পরিকল্পনা পেছনে ফেলে চীনই এখন বাংলাদেশের হকি দলের প্রস্তুতির নতুন ঠিকানা। পুরুষ দলের পাঁচটি এবং নারী দলের চার থেকে পাঁচটি ম্যাচের পরিকল্পনা থাকায় সফরটি হতে যাচ্ছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ের। চীনের ক্যাম্প থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে জাপানের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ হকি দল কতটা ভালো করতে পারে, সেটিই হবে পরের প্রশ্ন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ হকি দল: এশিয়াডের আগে চীনে বড় প্রস্তুতি

Update Time : ১০:৩০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ হকি দল এশিয়ান গেমসের আগে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নেবে চীনে। জার্মানি, চীন ও মিসরের মধ্যে কোথায় হবে কন্ডিশনিং ক্যাম্প—কয়েক দিন ধরে এই প্রশ্নই ছিল বাংলাদেশের হকি অঙ্গনে। শেষ পর্যন্ত জার্মানির পরিকল্পনা ভিসা জটিলতায় আটকে যাওয়ায় চীনকেই বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। শুধু পুরুষ দল নয়, নারী দলও একই দেশে গিয়ে প্রস্তুতি নেবে।

বাংলাদেশ হকি দলের জন্য চীন সফরটি হবে প্রায় দুই সপ্তাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি পর্ব। এশিয়ান গেমসের মতো বড় আসরে নামার আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যে কোনো দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে চীনে একাধিক প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার পরিকল্পনাটি বাংলাদেশের দুই দলের জন্যই বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘ অনুশীলনের পাশাপাশি ম্যাচের আবহে নিজেদের ভুল-ত্রুটি যাচাই করার সুযোগ পাবেন খেলোয়াড়েরা।

পুরুষ দলের চীন যাত্রার সম্ভাব্য তারিখ ২ সেপ্টেম্বর। নারী দল অবশ্য আরও আগে, ৩০ আগস্ট দেশ ছাড়বে। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল হক প্রিন্স জানিয়েছেন, দুই দলেরই চীন সফরের ভিসা হয়ে গেছে। ফলে শেষ মুহূর্তে বড় কোনো পরিবর্তন না এলে পরিকল্পনা অনুযায়ীই দুই দল চীনের উদ্দেশে রওনা হবে। প্রস্তুতির জায়গা নিশ্চিত হওয়ায় খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফেরাও এখন ম্যাচ পরিকল্পনায় আরও মনোযোগ দিতে পারবেন।

আরও পড়ুন  রেকর্ড ভেঙে হ্যাটট্রিক, ম্যাচসেরা মেসি

চীনে পুরুষ দলের প্রস্তুতি হবে বেশ ব্যস্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, চীনের জাতীয় হকি দলের বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে বেইজিংয়ের একটি স্থানীয় ক্লাবের বিপক্ষে আরও দুটি ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে। অর্থাৎ সবকিছু পরিকল্পনামতো হলে পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন বাংলাদেশের পুরুষ হকি খেলোয়াড়েরা। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধারাবাহিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এশিয়ান গেমসের আগে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

নারী দলের প্রস্তুতিও থাকছে প্রায় একই রকম ব্যস্ততায়। তাদের জন্য চার থেকে পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নারী দলও শুধু অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ম্যাচ পরিস্থিতিতে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে। বিশেষ করে আক্রমণ, রক্ষণ, পেনাল্টি কর্নার এবং ম্যাচের চাপ সামলানোর জায়গাগুলোতে এই ম্যাচগুলো কাজে লাগতে পারে। বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন প্রস্তুতি আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়ক হতে পারে।

আরও পড়ুন  এশিয়ান গেমস হকি ক্যাম্পে জিমি, নতুন ৬ খেলোয়াড়ের ডাক

বাংলাদেশ হকি দলকে ঘিরে চীন সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সময়ের হিসাব। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসবে ২০তম এশিয়ান গেমস। অর্থাৎ চীনে ক্যাম্প শেষ করে খুব বেশি সময় হাতে থাকবে না। তাই সেখানে শুধু অনুশীলন নয়, প্রতিটি প্রস্তুতি ম্যাচকে এশিয়াডের মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখতে হবে। কোচিং স্টাফদের জন্যও এটি হবে চূড়ান্ত একাদশ ও কৌশল ঠিক করার গুরুত্বপূর্ণ সময়।

এর আগে জার্মানিতে ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। মিসরও ছিল সম্ভাব্য বিকল্প। শেষ পর্যন্ত চীনকে বেছে নেওয়ায় এখন সেই অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। প্রস্তুতির ভেন্যু নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ায় দুই দলের খেলোয়াড়দের সামনে লক্ষ্যও পরিষ্কার—চীনে নিজেদের সর্বোচ্চটা দেওয়া এবং সেখানকার ম্যাচগুলো থেকে এশিয়ান গেমসের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া।

আরও পড়ুন  জিমি বাংলাদেশের মেসি: চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন গেরহার্ড

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী—দুই হকি দলই অংশ নেবে। তাই চীনের এই ক্যাম্পকে শুধু সাধারণ বিদেশ সফর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এশিয়ার অন্যতম বড় ক্রীড়া আসরের আগে নিজেদের অবস্থান যাচাই করার এটি হবে বড় সুযোগ। শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ কতটা প্রস্তুত, কোন জায়গায় ঘাটতি রয়েছে এবং কোথায় আরও কাজ করতে হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে এই সফরেই।

সব মিলিয়ে জার্মানি বা মিসরের পরিকল্পনা পেছনে ফেলে চীনই এখন বাংলাদেশের হকি দলের প্রস্তুতির নতুন ঠিকানা। পুরুষ দলের পাঁচটি এবং নারী দলের চার থেকে পাঁচটি ম্যাচের পরিকল্পনা থাকায় সফরটি হতে যাচ্ছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এখন অপেক্ষা শুধু মাঠের লড়াইয়ের। চীনের ক্যাম্প থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে জাপানের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ হকি দল কতটা ভালো করতে পারে, সেটিই হবে পরের প্রশ্ন।