পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর, যার প্রধান কারণ হলো গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থানরত একটি শক্তিশালী লঘুচাপ। মঙ্গলবার প্রকাশিত আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট এই লঘুচাপটি ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে বর্তমানে ঝাড়খণ্ড এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে মৌসুমী বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার ও লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ু বেশ প্রবল অবস্থায় থাকায় দেশের প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।
প্রথম দিনে অর্থাৎ মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই সময়ে দেশের নদী অববাহিকা ও উপকূলীয় অঞ্চলে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ নামতে পারে। তবে এ দিন সারা দেশে দিন ও রাতের সার্বিক তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে আবহাওয়া দপ্তর, যা আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি কিছুটা বজায় রাখতে পারে।
পরবর্তী দিন অর্থাৎ বুধবার ২৬ আগস্ট দেশের ছয়টি বিভাগে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে হালকা থেকে তীব্র বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হঠাৎ করে ঝোড়ো হাওয়াসহ মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ নামার কারণে নিচু এলাকায় সাময়িক জলজট তৈরি হতে পারে। এই দিনটিতে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেলেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে, ফলে আবহাওয়ায় তেমন কোনো বড় পরিবর্তনের আশা নেই।
২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবারও দেশের ওপর বৃষ্টির প্রভাব সমানভাবে বজায় থাকবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এবং ঢাকা ও রাজশাহীর কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ও দেশের কিছু কিছু অঞ্চলে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে, যা স্বাভাবিক জনজীবনকে কিছুটা ব্যাহত করতে পারে। তবে আগের দিনের তুলনায় এ দিন দিন ও রাতের উভয় তাপমাত্রাই সামান্য হ্রাস পেতে পারে, যা তাপমাত্রা সহনীয় মাত্রায় নিয়ে আসবে।
২৮ ও ২৯ আগস্ট অর্থাৎ সপ্তাহান্তেও এই বর্ষণমুখর আবহাওয়া টানা অব্যাহত থাকবে। ২৮ আগস্ট চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং ঢাকা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তাপমাত্রা এই দিন প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও ২৯ আগস্ট শনিবার ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বর্ষণের মাত্রা ফের বৃদ্ধি পাবে। চলতি মাসের শেষ দিনগুলোতেও আবহাওয়া এমন মেঘলা ও বৃষ্টিপ্রবণ থাকার পাশাপাশি দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
সার্বিকভাবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বর্ধিত পাঁচ দিনের বার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে এই পুরো সময়জুড়েই দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের ধারা বজায় থাকবে। লঘুচাপের কার্যকারিতা এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমী বায়ুর সক্রিয়তার কারণে উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হতে পারে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে ভূমিধসের ঝুঁকি এবং শহরাঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। তাই বৃষ্টি চলাকালীন দেশের আপামর জনসাধারণকে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।





























