ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ভিসা স্থগিত: শুধু অভিবাসীদের জন্য

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫০৫

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করা হয়নি। বিশ্বজুড়ে শুধু অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নতুন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করতেই ভিসা সাক্ষাৎকারের সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফলে যাঁদের সাক্ষাৎকারের তারিখ আগে থেকেই ঠিক ছিল, তাঁদের নতুন সময় পরে জানানো হবে।

হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত আসায় অভিবাসী ভিসার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে স্থায়ীভাবে ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের ভাষ্য, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই আপাতত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেনি পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের আরও ভালোভাবে যাচাই করা এবং ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের শনাক্ত করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন নিয়েও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক মতামত, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কিংবা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এমন নীতির কারণে বৈষম্য বাড়ছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এর মধ্যেই বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এটি কার্যকর করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশাসনের ওপর আইনি চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাই নতুন করে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি বদলের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ওপর। আগে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা, কাগজপত্র প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সম্ভাব্য সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে। তবে নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের তাই দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আসা ই-মেইল ও পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে হবে। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল নির্দেশনাই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তাদের মতে, কঠোর পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর প্রশাসন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এবার যে সিদ্ধান্তটি সামনে এসেছে, সেটি মনে রাখা জরুরি—মার্কিন ভিসা ব্যবস্থার সব ক্যাটাগরি নয়, সাময়িকভাবে শুধু অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে আবেদনকারীরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা তথ্য দেখতে পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন ভিসা স্থগিত: শুধু অভিবাসীদের জন্য

Update Time : ০৯:৩০:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন ভিসা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করা হয়নি। বিশ্বজুড়ে শুধু অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সাময়িকভাবে পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নতুন একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সেই কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করতেই ভিসা সাক্ষাৎকারের সূচিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ফলে যাঁদের সাক্ষাৎকারের তারিখ আগে থেকেই ঠিক ছিল, তাঁদের নতুন সময় পরে জানানো হবে।

হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্ত আসায় অভিবাসী ভিসার অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা এটিকে স্থায়ীভাবে ভিসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের ভাষ্য, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের জন্য শুরু হওয়া প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবেই আপাতত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের বিস্তারিত সময়সূচি প্রকাশ করেনি পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের আরও ভালোভাবে যাচাই করা এবং ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে যেসব আবেদনকারী ভবিষ্যতে সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের শনাক্ত করার বিষয়ে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন  বেলুচিস্তানে ১৯ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি বিএলএর

ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন নিয়েও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। রাজনৈতিক মতামত, বিক্ষোভে অংশগ্রহণ কিংবা বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের ঘটনাও সামনে এসেছে। প্রশাসনের যুক্তি, এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এমন নীতির কারণে বৈষম্য বাড়ছে এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আরও পড়ুন  সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণ: যুক্তরাষ্ট্রে বিস্ফোরক ডায়রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এর মধ্যেই বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ওই নীতি বাতিল করে বলেন, এটি কার্যকর করতে গিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রশাসনের ওপর আইনি চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাই নতুন করে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচি বদলের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের ওপর। আগে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় তাঁদের ভ্রমণ পরিকল্পনা, কাগজপত্র প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সম্ভাব্য সময়ও পিছিয়ে যেতে পারে। তবে নতুন সাক্ষাৎকারের তারিখ কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের তাই দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে আসা ই-মেইল ও পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখতে হবে। মার্কিন ভিসা-সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অফিসিয়াল নির্দেশনাই অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ।

আরও পড়ুন  এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বাধা হিসেবে বিবেচিত হবে ইসরায়েল: বিশ্লেষক

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তাদের মতে, কঠোর পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়তে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর প্রশাসন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে এবার যে সিদ্ধান্তটি সামনে এসেছে, সেটি মনে রাখা জরুরি—মার্কিন ভিসা ব্যবস্থার সব ক্যাটাগরি নয়, সাময়িকভাবে শুধু অভিবাসী ভিসাপ্রার্থীদের অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ নির্দেশনা জানতে আবেদনকারীরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভিসা তথ্য দেখতে পারেন।