ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নরেন্দ্র মোদীকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হায়দরাবাদে Logo খলনায়ক ডনের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বগুড়ায় মানববন্ধন Logo নেপালের শিক্ষক বাঁচালেন ৯০০ শিক্ষার্থী, অবিশ্বাস্য সাহসী সিদ্ধান্ত Logo খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে হাতকাটা কাশেম Logo পারেদেসের ১০ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা, ‘এটা কি বেশি নয়?’ Logo একসময় সাংবাদিকরা পয়সা ও হুমকির কাছে মাথা নত করেননি: রিজভী Logo বার্সেলোনার শেষ মুহূর্তের চমক, আসছেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস! Logo ছেলে থেকে মেয়ে, এবার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জিততে চান অনয়া Logo ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ, জানুন নতুন শর্ত Logo আতলেতিকোর প্রিয় থেকে শত্রু আলভারেজ, শেষ পর্যন্ত কী হবে?

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে হাতকাটা কাশেম

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলায় কারাগারে হাতকাটা কাশেম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেমকে’ রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক আবদুল হান্নান পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কাশেমকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা তার জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ আগস্ট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ২৫ আগস্ট শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, মামলার ঘটনা ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিলের। ওই সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কারওয়ান বাজার এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কারওয়ান বাজারের বাপেক্স ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। অভিযোগে হামলাটি হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় গাড়িবহরে থাকা কয়েকজন আহত এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, কাশেম এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনজীবীরা তার শারীরিক সমস্যার কথাও আদালতে তুলে ধরেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। পরে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে এখন তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। ফলে মামলার তদন্তে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্য আসামিদের বিষয়ে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নরেন্দ্র মোদীকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টেডিয়াম হায়দরাবাদে

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা: রিমান্ড শেষে কারাগারে হাতকাটা কাশেম

Update Time : ০৮:৫৪:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার তেজগাঁও থানা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো. আবুল কাশেম পাটোয়ারী ওরফে ‘হাতকাটা কাশেমকে’ রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক আবদুল হান্নান পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে কাশেমকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মনির হোসেন সুমন ও মাসুদ রানা তার জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন  সালমান শাহ মামলা: গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিল লাশ উত্তোলন ইস্যু

এর আগে গত ১৭ আগস্ট রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকা থেকে আবুল কাশেম পাটোয়ারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১৮ আগস্ট আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। ২৫ আগস্ট শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, মামলার ঘটনা ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিলের। ওই সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কারওয়ান বাজার এলাকায় তার গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর

মামলার অভিযোগে বলা হয়, কারওয়ান বাজারের বাপেক্স ভবনের সামনে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। অভিযোগে হামলাটি হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় গাড়িবহরে থাকা কয়েকজন আহত এবং যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা করা হয়। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শেখ হাসিনাসহ মোট ১১৩ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম হাসান এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দ মিজানুর রহমান।

আরও পড়ুন  আসামির পরিবর্তে প্রক্সি দিতে এসে আটক আরেক নারী

আদালতে রিমান্ডের বিরোধিতা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, কাশেম এ ঘটনায় জড়িত নন এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনজীবীরা তার শারীরিক সমস্যার কথাও আদালতে তুলে ধরেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ মামলার তদন্তের স্বার্থে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়। পরে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শেষে এখন তাকে কারাগারে পাঠানো হলো। ফলে মামলার তদন্তে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এবং অন্য আসামিদের বিষয়ে তদন্তে কী অগ্রগতি হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।