সালমান শাহ মামলা আবারও নতুন মোড় নিয়েছে। ঢাকার একটি আদালত সম্প্রতি চিত্রনায়ক সালমান শাহের লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি বাতিল করেননি। বরং এ বিষয়ে বাদীপক্ষের করা আবেদনটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে আগে দেওয়া লাশ উত্তোলনের অনুমতি এখনও কার্যকর রয়েছে।
মঙ্গলবার আদালতে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের অনুমতি বাতিলের আবেদন করেন। আদালতের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর শুরুতে অনেকেই মনে করেছিলেন আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু পরে জানা যায়, আদালত কেবল আবেদনটি নথিভুক্ত করেছেন। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সালমান শাহ মামলার বাদী এবং অভিনেতার মামা মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি আদালতের বক্তব্য শুনে ভেবেছিলেন আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। পরে আদেশের ভিন্ন ব্যাখ্যা জানার পর তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবীও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রকাশ্য আদালতে দেওয়া আদেশ সম্পর্কে পরে ভিন্ন ব্যাখ্যা পাওয়া বিভ্রান্তিকর। তিনি বিচারিক কার্যক্রমে আরও স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তদন্তাধীন মামলায় এ ধরনের আবেদন আমলে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। সে কারণেই আবেদনটি কেবল নথিভুক্ত করা হয়েছে। ফলে সিআইডির আবেদনের পর দেওয়া আগের আদেশ বহাল রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।
বাদীপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রায় তিন দশক আগে দাফন হওয়া একটি লাশ থেকে এখন কার্যকর ফরেনসিক তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এছাড়া ১৯৯৭ সালে একবার লাশ উত্তোলনের সময়ও দেহাবশেষ অত্যন্ত পচনশীল অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। তাই নতুন করে লাশ উত্তোলন ধর্মীয় অনুভূতি ও সামাজিক পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মে আদালত সিআইডির আবেদনের পর সালমান শাহের লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন এবং ময়নাতদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আদালত সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যুর মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে তাঁর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিনেতার সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো সালমান শাহের মৃত্যু। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে একাধিক তদন্ত, প্রতিবেদন ও আইনি প্রক্রিয়া চললেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
সালমান শাহ মামলা তাই এখনও দেশের অন্যতম আলোচিত বিচারিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যু। আদালতের সর্বশেষ সিদ্ধান্তের পর মামলাটি আবারও জনমনে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে। এখন তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে ভক্ত, পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সবার।




























