বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা এখন বেশ জনপ্রিয় একটি ব্যবস্থা। চুরি, অনধিকার প্রবেশ কিংবা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে রাখতে অনেকেই বাড়িতে ক্যামেরা স্থাপন করছেন। তবে নিরাপত্তা বাড়াতে বাড়ির প্রতিটি ঘরে ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজন নেই। বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বের হওয়ার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ক্যামেরা বসালেই কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা সম্ভব।
সম্প্রতি হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি সাধারণ দুই বেডরুমের বাসার জন্য ২ থেকে ৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা যথেষ্ট হতে পারে। এর মধ্যে তিনটি ক্যামেরা অনেক বাসার জন্য একটি কার্যকর সেটআপ তৈরি করতে পারে।
বাড়ির প্রধান প্রবেশপথ সিসিটিভি বসানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোর একটি। তাই প্রথম ক্যামেরাটি মূল দরজার দিকে স্থাপন করা ভালো।
এতে বাড়িতে কে প্রবেশ করছে বা বের হচ্ছে, কোনো ডেলিভারি কর্মী দরজায় এসেছে কি না কিংবা অপরিচিত কেউ দীর্ঘ সময় দরজার সামনে অবস্থান করছে কি না—এসব বিষয় নজরে রাখা যায়।
ক্যামেরাটি এমন উচ্চতায় বসানো উচিত, যাতে মানুষের মুখ পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। একই সঙ্গে দরজার একেবারে বিপরীতে খুব নিচু অবস্থানে ক্যামেরা না বসিয়ে কিছুটা ওপর থেকে পুরো প্রবেশপথ কাভার করা ভালো।
দ্বিতীয় ক্যামেরাটি বাড়ির সম্ভাব্য দ্বিতীয় প্রবেশপথের দিকে রাখা যেতে পারে। গ্রাউন্ড ফ্লোরের বাসায় সেটি হতে পারে বারান্দা, বড় জানালা, সার্ভিস দরজা কিংবা এমন কোনো স্থান যেখান দিয়ে বাইরে থেকে সহজে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।
তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের করিডর বা লিফট এলাকায় আগে থেকেই ভবন কর্তৃপক্ষের সিসিটিভি থাকলে একই জায়গা আবার কাভার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাড়ির অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথকে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।
উপরের তলায় থাকা বাসার ক্ষেত্রে সব জানালায় ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজন নেই। তবে কোনো বারান্দা যদি পাশের ছাদ, সিঁড়ি কিংবা অন্য কোনো ভবন বা জায়গা থেকে সহজে পৌঁছানো যায়, তাহলে সেটিকে নজরদারির আওতায় রাখা যেতে পারে।
বিশেষ করে নিচতলার বড় জানালা, বারান্দা ও সার্ভিস দরজা নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এসব জায়গায় ক্যামেরা বসালে বাড়ির বাইরের গতিবিধি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
বাড়িতে যদি দ্বিতীয় কোনো প্রবেশপথ না থাকে, তাহলে প্রথম ক্যামেরার নজরের বাইরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তৃতীয় ক্যামেরা বসানো যেতে পারে।
এটি বাড়ির সামনের অংশ, পার্কিং এলাকা, গ্যারেজ, সিঁড়ির প্রবেশপথ কিংবা এমন কোনো জায়গায় বসানো যায় যেখানে অস্বাভাবিক চলাচল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ক্যামেরার সংখ্যা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু বাড়ির আয়তন নয়, বাড়ির নকশা, প্রবেশপথ, জানালা, বারান্দা ও আশপাশের পরিবেশও বিবেচনা করা জরুরি।
বাড়ির শোবার ঘর, বাথরুম বা ব্যক্তিগত জায়গায় নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা বসানোর প্রয়োজন নেই। এসব জায়গায় ক্যামেরা বসানো ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
সিসিটিভির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বাড়ির বাইরের প্রবেশপথ, দরজা, বারান্দা, গ্যারেজ বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পর্যবেক্ষণ করা।
ক্যামেরা এমন জায়গায় বসানো উচিত যাতে আলো সরাসরি লেন্সে না পড়ে। রাতের সময় পর্যাপ্ত দৃশ্যমানতার জন্য নাইট ভিশন সুবিধা থাকা ক্যামেরা ব্যবহার করা যেতে পারে।
এ ছাড়া ক্যামেরার ভিডিও সংরক্ষণের ব্যবস্থা, ইন্টারনেট সংযোগ, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লাইভ দেখার সুবিধা এবং ক্যামেরার পাওয়ার ব্যাকআপের বিষয়টিও বিবেচনা করা দরকার।
বাইরের ক্যামেরা হলে বৃষ্টি, ধুলা ও আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে এমন মডেল ব্যবহার করা ভালো। ক্যামেরার তার যেন সহজে কেটে বা খুলে ফেলা না যায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
একটি সাধারণ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে ২ থেকে ৪টি ক্যামেরা প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট হতে পারে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নয়। বড় বাড়ি, একাধিক প্রবেশপথ বা বড় বাইরের জায়গা থাকলে আরও ক্যামেরার প্রয়োজন হতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বেশি ক্যামেরা লাগানো নয়, বরং সঠিক জায়গায় ক্যামেরা স্থাপন করা। প্রবেশপথ ও সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো ভালোভাবে কাভার করতে পারলে তুলনামূলক কম ক্যামেরা দিয়েও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব।




























