টি-টুয়েন্টি দিয়েই কি যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ানো সম্ভব? অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের উত্তরটা বেশ চমকপ্রদ। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে ক্রিকেটকে জনপ্রিয় করতে গেলে শুরুতেই ‘ক্রিকেট’ নামটি সামনে না আনাই ভালো। বরং খেলাটিকে নতুন দর্শকের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে ‘টি-টুয়েন্টি’ নামে। কারণ, ক্রিকেট শব্দটি শুনলেই অনেকের চোখে ভেসে উঠতে পারে পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচের ছবি। অথচ টি-টুয়েন্টির আসল আকর্ষণ হলো গতি, আক্রমণ আর বিনোদন। পন্টিং মনে করেন, এই দিকটিই যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের সামনে তুলে ধরতে হবে।
দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পন্টিং বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের প্রচারের দায়িত্ব তাঁর হাতে থাকলে তিনি খেলাটির ব্র্যান্ডিং করতেন টি-টুয়েন্টি নামে। তাঁর যুক্তি, যেসব দেশে ছোটবেলা থেকেই মানুষ ক্রিকেট দেখে বড় হয়নি, সেখানে ‘ক্রিকেট’ শব্দটির সঙ্গে দীর্ঘ ম্যাচের ধারণা জড়িয়ে থাকতে পারে। তাই একেবারে নতুন দর্শকের কাছে প্রথমেই দ্রুতগতির সংস্করণটিকে তুলে ধরা বেশি কার্যকর। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে, যেখানে বেসবল, বাস্কেটবল ও আমেরিকান ফুটবলের মতো খেলাগুলোর সঙ্গে দর্শকের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে বেসবলকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করতে চান পন্টিং। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দর্শকের পরিচিত খেলার সঙ্গে টি-টুয়েন্টির তুলনা করলে এর আকর্ষণ বোঝানো সহজ হবে। বেসবল ও টি-টুয়েন্টি—দুটিই তুলনামূলকভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ হয়। তবে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বড় শট ও দ্রুত রান তোলার সুযোগ অনেক বেশি। একটি ম্যাচে কোনো দল অনেকগুলো ছক্কা মারতে পারে—এই বিষয়টি তরুণ দর্শকের কাছে তুলে ধরতে চান পন্টিং। তাঁর ধারণা, এভাবেই টি-টুয়েন্টির উত্তেজনা ও বিনোদনের জায়গাটা নতুন দর্শকদের বোঝানো সম্ভব।
পন্টিংয়ের পরিকল্পনায় অবশ্য টেস্ট বা ওয়ানডের জন্য দরজা বন্ধ করে দেওয়ার কথা নেই। বরং তাঁর ভাবনা হলো, আগে টি-টুয়েন্টির মাধ্যমে দর্শক তৈরি করতে হবে। মানুষ যখন খেলাটির নিয়ম, উত্তেজনা ও তারকাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে যাবে, তখন ধীরে ধীরে ক্রিকেটের অন্য সংস্করণের প্রতিও আগ্রহ তৈরি হতে পারে। ১৬৮টি টেস্ট খেলা সাবেক এই ব্যাটসম্যানের কাছে বিষয়টি অনেকটা নতুন বাজারে একটি খেলা প্রতিষ্ঠার কৌশলের মতো। শুরুতেই দীর্ঘ ম্যাচ দেখিয়ে দর্শককে আকৃষ্ট করার চেয়ে ছোট সংস্করণের মাধ্যমে তাদের আগ্রহ তৈরি করাই তাঁর কাছে বেশি বাস্তবসম্মত।
যুক্তরাষ্ট্রে অবশ্য টি-টুয়েন্টির পথ একেবারে নতুন নয়। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে যৌথভাবে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করেছে দেশটি। সেই আসরে পাকিস্তানকে হারিয়ে আলোচনাও তৈরি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে ২০২৩ সালে শুরু হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক মেজর লিগ ক্রিকেট বা এমএলসি। ছয়টি শহরভিত্তিক দল নিয়ে প্রায় ছয় সপ্তাহের এই টুর্নামেন্টের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে। এখনো প্রত্যেক দলের নিজস্ব হোম ভেন্যু না থাকলেও লিগটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ রয়েছে। বড় ব্যবসায়িক নামও এই লিগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে পন্টিং নিজেও সরাসরি যুক্ত। এমএলসির দল ওয়াশিংটন ফ্রিডমের প্রধান কোচ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের বিকাশ কাছ থেকে দেখছেন তিনি। তবে তাঁর মতে, শুধু একটি পেশাদার লিগ চালু করলেই দেশটিতে ক্রিকেট দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে যাবে না। প্রয়োজন শিকড় থেকে কাজ করা। অর্থাৎ ছোট বয়সেই আরও বেশি শিশুকে ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচিত করতে হবে। বেসবল খেলা শিশুদের একটি অংশকে টি-টুয়েন্টির দিকে আনার পরিকল্পনাও হতে পারে কার্যকর উপায়। পন্টিংয়ের এই ভাবনা বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিকেটের পরিচয়ও হয়তো বদলে যেতে পারে—‘ক্রিকেট’ নয়, প্রথমে ‘টি-টুয়েন্টি’ দিয়েই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছাবে খেলাটি।



























