তেল ও বিদ্যুতের সংকটকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের লং মার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে হাজার হাজার লিটার তেল পুড়িয়ে লং মার্চের মতো কর্মসূচি পালন করা অযৌক্তিক।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা পরিষদ পুকুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং শিশুদের সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই জ্বালানি ও তেল নিয়ে সংকট রয়েছে। বিভিন্ন দেশে চলমান যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে তেল-বিদ্যুতের সংকটকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-এনসিপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট বিভিন্ন ইস্যু সামনে এনে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। আগে তারা বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, এখন তেল, বিদ্যুৎ, সারসহ বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, দেশের স্বার্থে সংকট মোকাবিলায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ব্যবহার করে দেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। একই সঙ্গে সংকটের সময়ে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি তৈরি না করে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে দেশের দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, নদী, খাল, বিল, পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ করতে হবে। জলাশয় দূষণ ও অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের জলজ সম্পদ রক্ষায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণেরও ভূমিকা রয়েছে। দেশীয় মাছের প্রজাতি হারিয়ে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রাকৃতিক জলাশয় সংরক্ষণ এবং মাছের বংশবিস্তারের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
শিশুদের পানিতে ডুবে অপমৃত্যু রোধে সাঁতার শেখানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় রয়েছে। ফলে শিশুদের পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা কমাতে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সাঁতার শেখানো প্রয়োজন।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। বিশেষ করে জলাশয়ের আশপাশে শিশুদের চলাফেরার সময় তাদের প্রতি নজর রাখতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সাঁতার প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে যুব সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
তার মতে, তরুণ সমাজকে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সৃজনশীল কাজে যুক্ত করা গেলে তাদের মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদ পুকুরে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, দেশীয় প্রজাতি সংরক্ষণ এবং শিশুদের পানিতে নিরাপদ চলাচলের দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কে এম আব্দুল হালিম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোয়েল রানা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সাঁতার প্রশিক্ষণার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলাশয় ও দেশীয় মাছ রক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যুব সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে সামাজিকভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।



























