ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৩০০ প্রকল্পের অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭

১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা যাচাই করছে সরকার। ছবি: সংগৃহীত

১৩০০ প্রকল্প নিয়ে পৃথকভাবে পর্যালোচনা শুরু করেছে সরকার। আগের সরকারের সময়ে নেওয়া এসব উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এসব প্রকল্পের মূল্যায়ন আলাদাভাবে করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, কিছু প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু প্রকল্পের পর্যালোচনা এখনো চলছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প নেই।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এসব ঋণের আর্থিক দায় এখন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। অল্প সময়ে বিপুল ঋণ নেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা। তাঁর দাবি, আগের সময়ের অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

সরকার এখন এমন প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়, যেখান থেকে পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে। পর্যাপ্ত সুফল না দিয়ে শুধু আর্থিক দায় বাড়ায়—এমন প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার নীতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

সব মিলিয়ে ১৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগ করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন নীতির ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্পগুলো দেশের জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল বয়ে আনবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

১৩০০ প্রকল্পের অনিয়ম খতিয়ে দেখছে সরকার

Update Time : ০৬:৩৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩০০ প্রকল্প নিয়ে পৃথকভাবে পর্যালোচনা শুরু করেছে সরকার। আগের সরকারের সময়ে নেওয়া এসব উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা, প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য রেহানা আক্তার রানুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ে বাস্তবায়নাধীন প্রায় ১ হাজার ৩০০টি প্রকল্প বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। এসব প্রকল্পের মূল্যায়ন আলাদাভাবে করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, কিছু প্রকল্পের মূল্যায়ন প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু প্রকল্পের পর্যালোচনা এখনো চলছে। প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা ও অর্থনৈতিক কার্যকারিতা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রকল্প বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করা ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন  চালু হয়নি তিন বছরেও, ইজারায় যাচ্ছে কর্ণফুলী টানেলের বিলাসবহুল অতিথিশালা

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকার দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছিল। এসব ঋণের আর্থিক দায় এখন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। অল্প সময়ে বিপুল ঋণ নেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এগুলো হলো অর্থের যথাযথ ব্যবহার বা ‘ভ্যালু ফর মানি’, বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনা করা। তাঁর দাবি, আগের সময়ের অনেক প্রকল্পে এসব বিষয় যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।

আরও পড়ুন  পোশাক রপ্তানিতে ধাক্কা, জুলাইয়ে কমল আয়

সরকার এখন এমন প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়, যেখান থেকে পরিমাপযোগ্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল পাওয়া যাবে। পর্যাপ্ত সুফল না দিয়ে শুধু আর্থিক দায় বাড়ায়—এমন প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার নীতিও নেওয়া হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তৈরি হওয়া চাপ দেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।

আরও পড়ুন  এন্ট্রি-লেভেল প্রাইভেট ডাক্তারদের বেতন কাঠামো নির্ধারণে কমিটি গঠন

সব মিলিয়ে ১৩০০ প্রকল্প পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকারি অর্থের ব্যবহার আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিনিয়োগ করা হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন নীতির ভিত্তিতে নেওয়া প্রকল্পগুলো দেশের জনগণের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুফল বয়ে আনবে।